Jump to content
Please ensure regular participation (posting/engagement) to maintain your account. ×

Science, Technology, Engineering and Mathematics (STEM) of Bangladesh with R&D (2021-Future)


Recommended Posts

https://www.banglarunnoyon.net/national-news/43726

সিআরবি এলাকায় ১৮৩টি ঔষধি গাছের সন্ধান: গবেষণা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২১

%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0% 

চট্টগ্রাম নগরের ইতিহাস-ঐতিহ্যমণ্ডিত সবুজ পাহাড়ি এলাকা সিআরবির বনজঙ্গলে ১৮৩টি ঔষধি গাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলো ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, জন্ডিস, অর্শসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিআরবি এলাকাটি নিজেই যেন একটি ‘প্রাকৃতিক হাসপাতাল’। এখানে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে এসব ঔষধি গাছের বেশির ভাগ ধ্বংস হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওমর ফারুক রাসেলের নেতৃত্বে বেসরকারি সংস্থা ইফেক্টিভ ক্রিয়েশন অন হিউম্যান ওপিনিয়ন (ইকো) গবেষণাটি করে। চট্টগ্রাম নগরের ২০টি এলাকার গাছের ওপর চার মাসের বেশি সময় ধরে গবেষণাটি করা হয়। গবেষণার অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের ‘ফুসফুস’খ্যাত সিআরবি রয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার গবেষণার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

জানতে চাইলে ওমর ফারুক বলেন, ‘সিআরবি এলাকাটি নিজেই যেন একটি প্রাকৃতিক হাসপাতাল। এখানে আমরা ১৮৩টি ঔষধি গাছের সন্ধান পেয়েছি। এসব গাছ বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বনৌষধির পাশাপাশি মেডিকেল সায়েন্সের ওষুধের জন্যও এসব উদ্ভিদ ব্যবহার করা হয়। আমাদের উচিত এই গাছগুলো সংরক্ষণ করা।’

গবেষণায় সিআরবি এলাকায় মোট ২২৩ প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া যায়। তার মধ্যে গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ ৩৪ প্রজাতির। লতাজাতীয় উদ্ভিদ ২২ প্রজাতির। বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ৯টি। ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হতে পারে—এ রকম উদ্ভিদ ৬৬টি। এলাকাটিতে বড় বৃক্ষ রয়েছে ৮৮টি। যার মধ্যে শতবর্ষী গর্জন ও শিরীষ আছে।

গবেষণায় সিআরবির চেয়ে নগরের বাটালি পাহাড় ও মুরগির ফার্ম এলাকায় মাত্র দুই থেকে সাতটি ঔষধি গাছ পাওয়া গেছে। গাছের সংখ্যা ও বৈচিত্র্যের দিক থেকে সিআরবি নগরের ২০টি এলাকার মধ্যে তৃতীয়।

গবেষণার উদ্যোক্তা ইকোর সভাপতি সরওয়ার আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহর ক্রমেই বনজঙ্গলশূন্য হয়ে পড়ছে। এই উদ্বেগ থেকে বর্তমানে এখানে কী পরিমাণ সবুজ অবশিষ্ট রয়েছে, তা অনুসন্ধানের জন্য আমরা গবেষণাকর্মটির উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমাদের গবেষকেরা অনেক ঔষধি গাছের সন্ধান পেয়েছেন।’

গবেষকেরা জানান, সিআরবি এলাকায় যেসব ঔষধি গাছ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে টোনা (Oroxylum indicum), অর্জুন (Terminamia arjuna), লজ্জাবতী (Mimosa pudica), আপাং (Achyranthus aspera), নিসিন্দা (Vitex nikundu), টগর (Tabernaemontana divericata), শজনে (Moringa oliefera), দেবকাঞ্চন (Bauhinia purpuria), মাটমিন্দা (Tacca intigrifolia), সর্পগন্ধা (Rauvolfia tetraphylla), বকুল (Mimusops elengi), শিমুল (Bombax ceiba), পিতরাজ (Aphanamixis polystachya), দুধকুরুস (Wrightia arborea), বাকা গুলঞ্ছ (Tinospora erispa), সোনাতলা (Diploclasia glaucescens), দুরন্ত (Duranta erecta) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

গবেষকেরা জানান, টোনা ক্যানসার রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জন্ডিস, শরীরব্যথা, পেটব্যথা, ডায়ারিয়া, আমাশয়, বাত, শ্বেতী ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায়ও এ গাছ ব্যবহৃত হয়। 

অর্জুন ডায়ারিয়া, আমাশয়, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, দাঁতব্যথা, শরীরব্যথা, হাঁপানি ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় এই গাছ ব্যবহৃত হয়। 

লজ্জাবতীর মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল—সবকিছুরই ভেষজ গুণাগুণ রয়েছে। ফোলা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, অর্শ, কফ-কাশি, ফোড়া, জন্ডিস ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় লজ্জাবতী ব্যবহৃত হয়। 

নিসিন্দাপাতা নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে দাদ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

লজ্জাবতী, নিসিন্দা, সর্পগন্ধা সাপের বিষ নিষ্ক্রিয়করণে ব্যবহার করা হয়। 

আপাংয়ের শিকড় ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। লিউকোরিয়া, টিউমার, দাঁতব্যথা, কিডনিতে পাথর, ঠান্ডা, জ্বর, নিউমোনিয়া, পেটব্যথার চিকিৎসায় আপাংয়ের ব্যবহার রয়েছে। 

টগর জন্ডিস, ফোঁড়া, জ্বর, বদহজম, প্লীহা, লিভারের রোগ, বাত ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। 

শজনের শিকড়, কাণ্ড, পাতা, ফুল ও ফল দারুণ পুষ্টিসমৃদ্ধ। এ জন্য একে ‘ম্যাজিক’ গাছ বলা হয়। এর রয়েছে নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ। প্লীহা ও লিভারের রোগ, জ্বর, ফোলা, পক্ষাঘাত, পেটের রোগ, মৃগীরোগের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হয়। 

দেবকাঞ্চন রক্তক্ষরণ বন্ধ, বাত, খিঁচুনি, ডায়ারিয়া, ব্যথা, আলসার ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও দেবকাঞ্চনের ব্যবহার রয়েছে। 

মাটমিন্দাপাতা রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ব্যবহার করা হয়। 

গবেষকেরা জানান, সিআরবি এলাকায় ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হতে পারে—এমন উদ্ভিদগুলোর মধ্যে রয়েছে সর্পগন্ধা, বকুল, শিমুল, পিতরাজ, দুধকুরুস, বাকা গুলঞ্ছ, সোনাতলা, দুরন্ত ইত্যাদি। 

গবেষণায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থী মো. খন্দকার রাজিউর রহমান, ইমাম হোসেন, সজীব রুদ্র, মো. আরিফ হোসাইন, সনাতন চন্দ্র বর্মণ, ইকরামুল হাসান ও মো. মোস্তাকিম অংশ নেন। 

ইকোর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এস এম ইউসুফ সোহেল ও সাহেদ মুরাদ বলেন, সিআরবিতে এত বৈচিত্র্যপূর্ণ ও ঔষধিগুণসমৃদ্ধ বৃক্ষ রয়েছে, তা তাঁরা আগে জানতেন না। এগুলো দেশের সম্পদ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই সবুজ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। 

সিআরবি এলাকা থেকে প্রস্তাবিত হাসপাতালটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে এখানকার ‘প্রাকৃতিক হাসপাতাল’ রক্ষার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞসহ পরিবেশকর্মীরা। 

সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের বিরোধিতা করে এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে আসছে বিভিন্ন সংগঠন। তাদের দাবি, সিআরবির শান্ত-কোলাহলহীন সবুজ এলাকা বাদ দিয়ে হাসপাতালটি শহরের অন্য কোথাও করা হোক। 

আন্দোলনরত সংগঠন নাগরিক সমাজের উদ্যোক্তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘সিআরবি ঐতিহ্যগতভাবে যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি বৃক্ষরাজিতেও অনন্য। বৃক্ষরাজির দিকটি গবেষণায় উঠে এসেছে। নগরজীবনে এত ঔষধি গাছ কোথায় পাব আমরা?’ 

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ আবদুর রবসহ সাতজনে কবর রয়েছে সিআরবি এলাকায়। পিপলস ভয়েস নামের একটি সামাজিক সংগঠন সিআরবির শতবর্ষী গাছগুলোয় শহীদদের নামফলক টাঙিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি শরীফ চৌহান বলেন, ‘এখানে বীর শহীদরা শুয়ে আছেন। এই গাছ ও সবুজ এলাকা রক্ষা করা হলে তাঁদের প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করা হবে।’ 

ব্রিটিশ আমলে তৈরি সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং এখানে অবস্থিত। এখানকার ছয় একর জমিতে বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য রেলওয়ে চুক্তি করেছে।

  • Like 1
Link to comment
Share on other sites

https://bangla.dhakatribune.com/bangladesh/2021/08/26/38674

আবারও পানিতে ঢেউ তুলবে হারিয়ে যাওয়া সুস্বাদু ‘কাকিলা’ মাছ

 ট্রিবিউন ডেস্ক

 প্রকাশিত ০৫:৫৫ সন্ধ্যা আগস্ট ২৬, ২০২১

unnamed-1629977494509.jpg

দেশের বিলুপ্তপ্রায় ৬৪টি মাছের মধ্যে ৩০টি মাছের কৃত্রিম প্রজননে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট সফলতা লাভ করেছে

একসময় বলা হতো “মাছে ভাতে বাঙালি“”। গ্রাম বাংলায় পৌষ-মাঘ মাসে পুকুর, খাল, ডোবা, ঘেরের পানি কমতে থাকলে দেশি মাছ ধরার ধুম পড়ে যেত। দেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছে গ্রাম-গঞ্জের হাটবাজারগুলো সয়লাব হয়ে যেত। এখন আর সেসব মাছ দেখা যায় না। জেলেদের জালেও এখন ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরা পড়ে না। অনেক মাছ তো একেবারেই হারিয়ে গেছে দেশের জলাশয় থেকে।

তেমনি প্রায় হারিয়ে যাওয়া স্বাদু পানির মাছ কাকিলা। গ্রামে বসতি এমন মানুষজন কাকিলা মাছের সঙ্গে অল্পবিস্তর পরিচিত হলেও শহুরে মানুষের কাছে এই মাছ একেবারেই অচেনা। আর তাই হারিয়ে যাওয়া এই মাছটিকে আবারও ফিরিয়ে আনতে এর কৃত্রিম প্রজনন কলাকৌশল উদ্ভাবনে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিজ্ঞানীরা। মুক্ত জলাশয়ের এই মাছটিকে বদ্ধ পরিবেশে অভ্যস্তকরণেও সাফল্য পেয়েছেন তারা। ফলে পানিতে ঢেউ তোলা এই মাছ আবারও ফিরবে বলে আশা করছেন তারা। 

ইংরেজি জাতীয় দৈনিক ডেইলি স্টার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিএফআরআইয়ের বিজ্ঞানীরা বলছেন, কাকিলা বা “কাখলে” একটি বিলুপ্তপ্রায় মাছ। এর দেহ সরু, ঠোঁট লম্বাটে ও ধারালো দাঁতযুক্ত। বাংলাদেশে যে জাতটি পাওয়া যায়, সেটি মিঠা পানির জাত। মাছটি বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলে কাইকল্যা, কাইক্কা নামেই বেশি পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম Xenentodon cancila মাছটিকে ইংরেজিতে “ফ্রেশওয়াটার গারফিশ” বলে। এটি Belonidae পরিবারের অন্তর্গত। বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে এ মাছ পাওয়া যায়। তবে, রং ও আকারে কিছু পার্থক্য থাকে। স্বাদু পানির অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে বিশেষ করে নদী-নালা, হাওর-বাঁওড়, খাল-বিল ইত্যাদি জলাশয়ে যে মাছগুলো পাওয়া যায়।

তারা আরও বলেছেন, খেতে সুস্বাদু এই মাছটি মানব দেহের জন্য উপকারী “অণুপুষ্টি” উপাদান সমৃদ্ধ এবং কাঁটা কম হওয়ায় অনেকের কাছে প্রিয়। এক সময় অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে মাছটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া গেলেও জলবায়ুর প্রভাব, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও মানবসৃষ্ট নানাবিধ কারণে বাসস্থান ও প্রজননক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ মাছের প্রাচুর্যতা ব্যাপকহারে কমে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তারা এই মাছটির প্রাচুর্যতা ফিরিয়ে আনতে গবেষণা শুরু করেন। 

গবেষকরা জানান, তারা তাদের গবেষণায় রাজবাড়ি জেলা সংলগ্ন কুষ্টিয়ার পদ্মা নদী থেকে কাকিলা ব্রুড (মা-বাবা মাছ) মাছ সংগ্রহ করে বিশেষ পদ্ধতিতে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে যশোরের স্বাদু পানি উপকেন্দ্রের পুকুরে ছাড়েন। পরে হ্যাচারিতে উৎপাদিত কার্প জাতীয় মাছের জীবিত পোনা ও নানা জলাশয় থেকে সংগৃহীত জীবিত ছোট মাছ খাইয়ে পুকুরের আবদ্ধ পরিবেশে মাছকে অভ্যস্ত করা হয়।

fish-1617627113329.jpg

পরে এ বছরের মে থেকে বৈজ্ঞানিক প্রটোকল অনুসরণ করে কৃত্রিম প্রজননের উদ্দেশ্যে উপকেন্দ্রের হ্যাচারিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক মা-বাবা মাছকে বিভিন্ন ডোজে হরমোন ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। এভাবে কয়েকবার বিভিন্ন ডোজের ট্রায়াল দেওয়া হলেও মাছের প্রজননে সফলতা আসেনি। অবশেষে ২৫ আগস্ট প্রজনন করা মাছের ডিম থেকে পোনা বের হয় এবং কাকিলা মাছের কৃত্রিম প্রজননে সফলতা আসে।

গবেষক দলের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রবিউল আউয়াল হোসেন জানান, কাকিলা মূলত ছোট মাছ খেয়ে থাকে। প্রাকৃতিকভাবে প্রবহমান জলাশয়ে বিশেষ করে নদীতে এবং বর্ষাকালে প্লাবিত অঞ্চলে প্রজনন করে থাকে। পরিণত মাছেরা ভাসমান জলজ উদ্ভিদ নেই এমন স্থানে বসবাস করলেও জলজ উদ্ভিদের পাতার নিচে ও ভাসমান শেকড়ে এদের স্ত্রী মাছেরা ডিম পাড়ে।

তিনি আরও জানান, কাকিলা মাছের প্রজননের জন্য পিজি (পিটুইটারি গ্ল্যান্ড) হরমোন ব্যবহার করা হয়। গত ১৮ আগস্ট পুকুর থেকে মাছ ধরে চার জোড়া মা-বাবা নির্বাচন করে হ্যাচারির চৌবাচ্চায় নির্দিষ্ট সময় ঝর্ণাধারা দিয়ে মা-বাবা মাছকে একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয়। পরে মা-বাবা মাছকে একত্রে একটি চৌবাচ্চায় রেখে ঝর্ণাধারা দিয়ে সেখানে কচুরি পানা রাখা হয়। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পরে মা মাছ ডিম ছাড়ে। ডিমের ভেতরে বাচ্চার বিভিন্ন দশা ও উন্নয়ন অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। ডিম ছাড়ার প্রায় ৯০ থেকে ১০০ ঘণ্টার মধ্যে নিষিক্ত ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়।

গবেষক দলের সদস্য ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, “তিন বছর নিবিড় গবেষণার পরে এখন সাফল্য এসেছে। ফলে কাকিলা বিলুপ্তির আশঙ্কার বদলে আবারও পানিতে ঢেউ তুলবে বলে আশা করা যায়। কাকিলা মাছের কৃত্রিম প্রজনন এটিই বাংলাদেশ প্রথম এবং বিশ্বের কোথাও এ মাছের কৃত্রিম প্রজননের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।”

বিলুপ্ত ৬৪টি মাছের মধ্যে ৩০টির কৃত্রিম প্রজনন:

বিএফআরআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদকে উদ্ধৃত করা বলা হয়েছে, দেশের বিলুপ্তপ্রায় ৬৪টি মাছের মধ্যে ৩০টি মাছের কৃত্রিম প্রজননে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট সফলতা লাভ করেছে। সফলতার ধারাবাহিকতায় ৩১তম মাছ হিসেবে কাকিলা মাছ যুক্ত হলো। দেশীয় মাছকে সংরক্ষণের জন্যে ময়মনসিংহে ইনস্টিটিউটের সদর দপ্তরে লাইভ জিন ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। দেশীয় মাছ সংরক্ষণ গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্যে ২০২০ সালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট একুশে পদক অর্জন করেছে।

উল্লেখ্য, বিএফআরআইর স্বাদু পানি উপকেন্দ্র যশোরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রবিউল আউয়াল হোসেন, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শিশির কুমার দে এই গবেষণা পরিচালনা করেন।

  • Like 1
Link to comment
Share on other sites

https://www.tbsnews.net/features/panorama/pineapple-yarn-new-addition-bangladeshs-fashion-attire-252937

Faisal Mahmud

30 May, 2021, 10:15 am

Last modified: 03 June, 2021, 05:39 pm

Pineapple yarn: A new addition to Bangladesh’s fashion attire

A version of beautiful and exquisite pineapple silk is now being produced in Bangladesh with pineapples cultivated in Tangail

frc_pina_fabric_2.jpg?itok=YMMFmAhu&time

 

Pina fibre is often blended with cotton, abaca, and silk to create wonderful light, breezy fabrics. Photo: Collected

'Barong Tagalog' – a translucent, embroidered shirt sewn from pineapple fibre and silk is an integrated part of the Filipino culture and has been there in the nation since the 15th century when the coloniser Spaniards brought pineapples into the archipelago. 

But it was in November 2015, at the 21st meeting of the Asia Pacific Economic Cooperation (APEC) held in Manila, when the famed cloth made headlines across the globe after former US President Barack Obama went up on the centre stage donning a 'Barong Tagalog.'

This fine cloth sewn from pineapple fibre (also known as 'pina' or piña) has usually been worn by royalties and important persons across the globe. Museums hold exquisite piña dresses in their collections – a legacy of a 19th-century fashion trend.

A version of that 'Barong Tagalog' or pineapple silk is now being produced in Bangladesh with pineapples cultivated in Srimongol; thanks to the entrepreneurial minds of Dawood Farhan and his daughter Umaima Jahan Dawood who brought this gourmet couture to Bangladesh.

frcpina_fiber.jpg?itok=OSlpnv_C&timestam

Being transparent and silky, pineapple fibre is a wonderful fabric. Photo: Collected

Entrepreneurship led to partnership

Dawood Farhan is the managing director of the Desher Jonno Agro Ltd. Fibre Resource Centre (FRC) is a sister concern of  Desher Jonno Agro Ltd. It is a sustainable manufacturing project that has pioneered the use of pineapple fiber, fabric and yarn on a commercial level.

Dawood has travelled all over the country and many places abroad for various works throughout his life and has been a pioneer in many fields in the agriculture, poultry and livestock areas. 

Dawood first saw the beautiful pineapple silk in the Philippines. "It was a wonderful fabric – transparent, silky and very classy. It was not only beautiful to look at but was also very comfortable to wear."

"I got very curious when I learned that it was made from pineapple waste. I was drawn to study a bit more about the history of making this yarn and started learning the process," he said.

After learning the history and craft of making yarns out of pineapple, he thought of producing the fabric in Bangladesh. 

"Pineapple as you know is grown in abundance in the Modhupur, Chattogram Hill Tracts and Sylhet area of Bangladesh. I thought if this fabric can be made in the Philippines, why not here!" he said.

intl_pina_fibre_2.jpg?itok=XxkWmFCt&time

Another example of the quality of the Pina fibre. Photo: Collected

His innovative nature and extensive knowledge about history led him to find ways to make yarns from pineapple. 

His personal research led him to meet the then and present day chief of the Mennonite Central Committee (MCC) David Hall at a meeting.

Mennonite Central Committee (MCC) at that point had their own extensive research on this subject matter and was looking for a like-minded individual who would lead this project commercially but also serve the interest of creating employment in the tribal, deprived and sexually exploited women's communities.

Farhan has always been a supporter of the concept of creating employment opportunities for all, especially those who are deprived and exploited socially. 

The two ideas met and merged and the Fibre Resource Centre Bangladesh came into being.  

umaima-jahan-dawood-1_0.png?itok=mOACTqe

Current head of the pineapple yarn project Umaima Dawood. Sketch/TBS

The process of making the cloth

While talking with The Business Standard, Dawood's daughter and the current head of the pineapple yarn project Umaima Dawood said, for making pina fibre, the outer, long leaves of the pineapple are preferred. 

In the manual process, she said, they are first decorticated by beating, rasping, and stripping, and then left to ret in water to which chemicals may be added to accelerate the activity of the microorganisms which digest the unwanted tissues and separate the fibres. 

frc_members.jpg?itok=tgUw1wLN&timestamp=

For making pina fibre, the outer, long leaves of the pineapple are preferred. Photo/Collected

The retting time has been reduced from five days to 26 hours. The rested material is washed clean, dried in the sun and combed. 

Estimating 10 leaves per lb (22 per kg), 22,000 leaves would constitute one ton and would yield 50-60 lbs (22-27 kg) of fibre. 

Umaima said that making pina cloth is a delicate process as it is hand loomed by only a few weavers, it is very precious and scarce, which also makes it expensive.

"The major end use of pina fibre is the Barong Tagalong, wedding dresses and other traditional Filipino formal dress," she said, adding that it is also used for table linens, mats, bags and other clothing items.

Because it is lightweight but stiff, this sheer fabric can be used in any creative design. "There are not many clothing items which are more beautiful than those made from pineapple," said Umaima. 

intl_pina_fibre_3.jpg?itok=qRG3WXOl&time

The rested material is washed clean, dried in the sun and combed. Photo: Collected

She said that the traditional decoration for this fabric is a style of hand embroidery called 'calado'. 

An embroidered pina garment is called 'pina calado'. These hand-woven fabrics are coloured with vegetable dyes originating from leaves, and bark of different trees.

When asked whether pineapple yarn is as good as cotton, Umaima said that "it is a different material, so quite difficult, almost impossible to compare it." 

"Pina in its own place is of a very high grade and produces fabulous materials and yarn. It has a fantastic look and feel to it, in addition to being environmental and skin-friendly," she said.

The varieties of cloth

Pina fibre is often blended with cotton, abaca, and silk to create wonderful light, breezy fabrics. 

When woven with silk, it is called 'Pina Seda' or Pina-silk. 'Pina Jusi' is blended with 'jusi' (abaca or silk) for strength and sheerness and is less expensive than 100% pina.

Umaima said that they currently produce FRC Pina Silk, FRC Pina Cotton, FRC Pina Cotton/Silk.

intl_pina_fibre_4_0.jpg?itok=5YupwDIm&ti

Dresses sewn from pineapple fibre have usually been worn by royalties and important persons across the globe. Photo: Collected

"Yes, this is made of pineapple," replied Umaima when we asked whether the beautiful fine, transparent golden scarf she was wearing at the time we met was made from pineapple.

"We have made some clothes that we have worn to many events too, both day wear and evening wear!

Umaima said that it is an environmentally friendly wear, a product that is used up completely without leaving any negative footprints.

recycled_cotton_fabric_0.jpg?itok=sVxmff

The products are environmentally friendly. Photo: Collected

She said, "With time, consumers have become very conscious about the environment which is great news for all of us. At the same time, consumers are also very fashion conscious. With a fabric like this – all natural and so versatile in its uses, the prospects are many – many styles, many uses, many benefits."

Umaima added that it is a new concept in Bangladesh, so people will generally take some time to understand it better.

"But once they do, and also know of the many benefits to society at large – we know they will be as excited and interested about the FRC Pina fabric and products, if not more," she said. 

About the marketing strategy for the cloth, Umaima said that they want the people of Bangladesh to know that "this product is coming from their own country, being made by their own people and needs to be worn and promoted by its people too."

Link to comment
Share on other sites

https://bangla.dhakatribune.com/bangladesh/2021/08/30/38913

ভোলায় ধরা পড়ল ১০টি ‘পাখি মাছ’

 আহাদ চৌধুরী তুহিন, ভোলা

 প্রকাশিত ০৮:৪২ রাত আগস্ট ৩০, ২০২১

pakhi-1630334456888.jpg

ভোলার সমুদ্র মোহনায় ধরা পড়া ১০টি পাখি মাছের একটি ঢাকা ট্রিবিউন

এ মাছের পুষ্টিগুণ মানবদেহের জন্য উপকারী

ভোলার সমুদ্র মোহনায় জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ১০টি “ফ্লাইং ফিশ” বা “পাখি মাছ”। প্রতিটি মাছের ওজন গড়ে ২০ থেকে ২৫ কেজি।  

সোমবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মাছগুলো সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল মৎস্যঘাটে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোলার খাল মৎস্য ঘাটের আড়ৎদার মো. জাকির হোসেন।

তিনি বলেন, জেলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনায় গতকাল (২৯ আগস্ট) রাতে জেলেদের জালে ওই মাছগুলো ধরা পড়ে। সকালে জেলেরা সেগুলো চরফ্যাশনের সামরাজ ঘাটে নিয়ে আসেন। ভালো দাম না পাওয়া মাছগুলো দুপুরের দিকে ভোলার খাল মৎস্যঘাটে এনে ডাকের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। 

এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন বলেন, আমার জানামতে ভোলায় এবার প্রথমবারের মতো এ মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়েছে। এ মাছগুলোকে ফ্লাইং ফিশ বা স্পিড ফিশ বলা হয়। গ্রামের মানুষ এটিকে পাখি মাছ বলে। 

তিনি আরও বলেন, এগুলো মূলত গভীর সমুদ্রের দ্রুতগতির মাছ। এছাড়াও এ মাছের পুষ্টিগুণ মানবদেহের জন্য উপকারী।

এর আগে, গত ২৫ আগস্ট রাতে পটুয়াখালীর মহিপুর উপজেলায় বঙ্গোপসাগরের বৈরাগী বয়া সংলগ্ন এলাকায় নুরুন্নবী মাঝি নামের এক জেলের জালে ধরা পড়েছিল ৮টি পাখি মাছ।

  • Like 1
Link to comment
Share on other sites

Bangladeshi students have secured six awards in this year's International Earth Science Olympiad, which was held virtually for the first-ever time. The Bangladeshi contingent secured an 'Excellent' award in the National Team Field Investigation event, an award equivalent to the gold medal in the physical iteration of the event. The members were Pallab Kanti Paul and Md. Jahirul Islam from Notre Dame College, Faiyaz Kamrul Khan from Adamjee Cantonment Public College and Aryan Andaleeb Azim. Pallab also won an 'Excellent' award in the Earth Systems Project category of the olympiad as a part of an international team, an event where Aryan claimed a 'good' (bronze) award. The members obtained another team award and two more individual awards in other events.

Source: Collected

240714764_391778699317247_48451616158465

 

Link to comment
Share on other sites

https://bangla.dhakatribune.com/bangladesh/2021/08/31/38946/বাংলাদেশি-বিজ্ঞানী-ড.-ফেরদৌসি-কাদরী-পেলেন-র‍্যামন-ম্যাগসেসে-পুরস্কার

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসি কাদরী পেলেন র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার

 ট্রিবিউন ডেস্ক

 প্রকাশিত ০২:১২ দুপুর আগস্ট ৩১, ২০২১

quadri-1581481046608-1630395899773.jpg

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী সংগৃহীত

লাখো মানুষের উপকারে টিকার উন্নয়নে নিবেদিত ভূমিকার জন্য তাকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরী ২০২১ সালের র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার জিতেছেন। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) র‌্যামন ম্যাগসেসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রচলিত জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে এ কথা জানা যায়।

র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার ঘোষণার সময় কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, লাখো মানুষের উপকারে টিকার উন্নয়নে নিবেদিত ভূমিকার জন্য তাকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হলো। 

প্রসঙ্গত, এশিয়ার নোবেল পুরস্কার খ্যাত র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার এশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মান।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশুদের সংক্রামক রোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধ বিষয়ে কাজ করে ড. ফেরদৌসী কাদরী ২০২০ সালে ল'অরিয়াল-ইউনেস্কো ফর উইমেন ইন সায়েন্স অ্যাওয়ার্ড জিতে নেন।

ম্যাগসেসে কমিটির কাছে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় ড. ফেরদৌসী কাদরী বলেন, "আমি আনন্দিত ও সম্মানিতবোধ করছি। র‌্যামন ম্যাসসেসেকে এ জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই পুরস্কার আমি বাংলাদেশ, আমার জন্মভূমির প্রতি উৎসর্গ করলাম। সেই সঙ্গে আমার প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবিকে উৎসর্গ করছি। এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে আমার কাজ এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছে।"

বাকি জীবন জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে উৎসর্গ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, "জনস্বাস্থ্য, উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বের মানুষের কল্যাণে আমি আমার বাকি জীবন উৎসর্গ করব।"

এছাড়া, বাংলাদেশ এবং পুরো বিশ্বের কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান এই খ্যাতনামা বিজ্ঞানী।

১৯৮৮ সালে ড. ফেরদৌসী কাদরী আইসিডিডিআর,বিতে যোগদান করেন। ২০১৪ সালে তিনি ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভস প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বাংলাদেশের স্থানীয় ও ভিসিটিং বিজ্ঞানীদের কাজের একটি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে বায়োমেডিকেল গবেষণা, ট্রেনিং কোর্স ও টেস্টিং সেন্টার পরিচালনা করা হয়।

ফিলিপাইনের সাবেক রাষ্ট্রপতি রামন ম্যাগসেসের শাসনে নিষ্ঠার দৃষ্টান্ত, জনগণের প্রতি সাহসী সেবা এবং একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মধ্যে বাস্তববাদী আদর্শকে চিরস্থায়ী করার জন্য তার নামে বার্ষিক পুরস্কারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৬৭ সালের  এপ্রিলে ফিলিপাইন সরকারের সম্মতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত রকফেলার ব্রাদার্স ফান্ডের ট্রাস্টিদের দ্বারা পুরস্কারটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

Link to comment
Share on other sites

https://www.dhakatribune.com/business/2021/08/31/new-technique-helps-farm-more-fish-minimize-waste

New technique helps farm more fish, minimize waste

 Tanveer Mohiuddin

 Published at 07:08 pm August 31st, 2021

biofloc-3-1630415284324.jpg

‘Using only an acre of land, we can now achieve the same output as a 30-acre pond. It is a simple technology, which is purely organic’

Fish farming, usually done in large ponds, has now moved indoors and is taking up less space as Bangladeshi aquaculture tries its luck at using biofloc technology (BFT).

Biofloc technology was developed in the 1990s as a way for fish and shrimp farmers to conserve feed inputs and utilize wastewater during production by piggybacking off the nitrogen cycle and letting beneficial bacterial colonies proliferate in culture water.

According to some experts, this method uses only 3.3% of the water and land required by ponds, making it very sustainable.

For instance, the use of BFT has enabled Aarsh Agro Limited — a company located in Jalalabad Housing Society, Chittagong — to produce nearly 30 times more fish compared to conventional pond farming.

The company started its operations in April last year and is run by four people: Md Wais Hossain, the chairman; Shafeen Sana Chowdhury, managing director; Mizanur Rahman, executive director, and Md Awsaf Hossain.

Aarsh Agro is also in the process of expanding through another project in Mawna, Sreepur upazila, which will help boost production facilities from 200,000 litres to 2 million litres. 

In recent years, there have been a lot of fisheries that have adopted this method but not everyone has been able to make it sustainable due to various reasons such as not being able to procure accessories for the system and a lack of experienced people in the sector.

After observing that there is a growing demand for low-cost protein sources, the founders of the company decided to cater to that market.

“In a country like Bangladesh where millions were facing hardships especially during the pandemic, we looked for ways to solve that issue. Given that we had limited knowledge in the field when we started, we spent a month on feasibility studies, researching case studies, research papers and YouTube tutorials, after which in mid-April last year, we arrived at the biofloc solution with a pilot project of a 10,000-litre-capacity,” said Shafeen Sana Chowdhury.

However, they did face obstacles, such as not finding reliable sources for good quality fry.

Transportation of the fry was a big challenge, according to the team, especially for their Chittagong project as it had to be transported long distances from Mymensingh and Bogura.

“High feed costs are another issue, as due to the pandemic, fish prices are also low in the market. We are educating and training ourselves and are currently working with consultants to mitigate the issues we have,” Chowdhury added.

When it comes to food, there are certain chemicals and nutrients that have to be added in the tanks from time to time from which the fish sustain.

Even though these nutrients are often available, there are various low-quality alternatives that these farmers have to be careful of.

Aarsh Agro currently employs five people who are in charge of maintaining the process. Apart from that, the owners also contribute their time to the fishery.

“Using only an acre of land, we can now achieve the same output as a 30-acre pond. It is a simple technology, which is purely organic,” said Wais.

He added: “The difference lies in the science of combining probiotic and fish waste into floc which becomes food and balance for the aquaculture — oxygen, nitrogen, and ammonia. The final result is the high-density growth for fish within a calculated time frame.”

According to the owners, if there were grants from the government or even soft loans available, then many more would also join in and develop the sector further.

They had to make an investment of Tk50 lakh to start the project.

“We fixed a target that by 2030, we will expand in sustainable ways to meet Bangladesh’s protein deficit. For this, we plan to scale up our capacity with quality fish while updating the technology from time to time,” Wais added.

But producing fish using this method is not a cakewalk.

According to a research paper published in Biotica Research Today, the technology requires active management to be successful.

The system requires a start-up period and yields are not always consistent between seasons. Since producers must constantly mix and aerate culture water, energy costs could be higher than expected.

In addition to these factors, producers must actively manage the biofloc ponds to prevent nitrite accumulation and to keep alkalinity levels remaining within a healthy range.

Monitoring fish health and welfare is also key as bioflocs can increase the levels of suspended solids in the water, leaving fish and shrimp susceptible to environmental stress. 

 

Link to comment
Share on other sites

https://www.tbsnews.net/bangla/ফিচার/ঝিনুক-প্রাচীরে-সুরক্ষা-পাবে-কুতুবদিয়া

টিবিএস ডেস্ক

01 September, 2021, 10:25 pm

Last modified: 01 September, 2021, 10:23 pm

ঝিনুক প্রাচীরে সুরক্ষা পাবে কুতুবদিয়া

২০১২ সালে যখন মোহম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের সহযোগী গবেষক ছিলেন, তখন কুতুবদিয়া দ্বীপের ঝিনুক রিফ বা ঝিনুক প্রাচীরের ধারণাটির উদ্ভাবন করেন। তার যুক্তি ছিল সহজ – সমুদ্রের ঢেউ তীরে পৌঁছানোর আগেই ঝিনুক প্রাচীরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে শান্ত হয়ে যাবে। এভাবে এটি উপকূলীয় ভাঙনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে কাজ করবে।

২০১২ সালে যখন মোহম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের সহযোগী গবেষক ছিলেন, তখন কুতুবদিয়া দ্বীপের ঝিনুক রিফ বা ঝিনুক প্রাচীরের ধারণাটির উদ্ভাবন করেন। তার যুক্তি ছিল সহজ – সমুদ্রের ঢেউ তীরে পৌঁছানোর আগেই ঝিনুক প্রাচীরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে শান্ত হয়ে যাবে। এভাবে এটি উপকূলীয় ভাঙনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে কাজ করবে।

কুতুবদিয়া দ্বীপের নির্মম বাস্তবতা মেনে নিতে মোহম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরী মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না। বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত এই দ্বীপটি দ্রুতই সমুদ্রে বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। মানুষের জীবন ধারণ হয়ে পড়ছিল এখানে সংকটাপন্ন। অনেকেই সংকটের মুখে দ্বীপ থেকে নিজেদের বসতি সরিয়ে নিয়েছেন; আবার অনেকেই পারেননি। যারা পারেননি, তারা এখানেই রয়ে গেলেন; কারণ প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে তারা জেনে এসেছেন এই দ্বীপই তাদের ঘর, তাদের স্থায়ী বসত ভিটা।

তিনি বলেন, "এই পরিবারগুলোকে আমি জেনেছি; তাদেরকে আমি বিশ্বাস এবং সম্মান করি। তাদের এই পরিস্থিতি বরাবরই আমাকে অশ্রুসিক্ত করে।"
 
শাহ নেওয়াজ চৌধুরী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে জলবায়ু অভিবাসী সংকট খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন। ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১৩.৩ মিলিয়ন বাংলাদেশী বাস্তুচ্যুত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
তবুও, কুতুবদিয়া দ্বীপের ভাঙন ঢেউয়ে কিছুটা আশার আলো দেখেছেন জনাব চৌধুরী। এই দ্বীপে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ঝিনুক। এই ঝিনুক প্রাচীর স্থানীয় মানুষের আয়ের একটি সম্ভাব্য উৎস হতে পারে, এবং চৌধুরী মনে করেন, এটি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা থেকেও কুতুবদিয়া দ্বীপকে রক্ষা করতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।
 
২০১২ সালে যখন জনাব চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের সহযোগী গবেষক ছিলেন, তখন কুতুবদিয়া দ্বীপের ঝিনুক রিফ বা ঝিনুক প্রাচীরের ধারণাটির উদ্ভাবন করেন। তার যুক্তি ছিল সহজ – সমুদ্রের ঢেউ তীরে পৌঁছানোর আগেই ঝিনুক প্রাচীরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে শান্ত হয়ে যাবে। তাই  এটি উপকূলীয় ভাঙনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে কাজ করবে।

এ ধারণাটি আগে নেদারল্যান্ডসে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিয়ানাতে ভালোভাবেই কাজ করেছিল। তাই এখন, ওয়াজেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক চৌধুরী এবং তার সহকর্মীরা একসঙ্গে কাজ করে দেখবেন, এ ধারণার উপর ভিত্তি করে তারা কুতুবদিয়া দ্বীপে পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারেন কিনা।

তবে, বাংলাদেশ থেকে নেদারল্যান্ডস এবং লুইজিয়ানা হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত এবং এই জায়গাগুলোর মাঝে যথেষ্ট পরিবেশগত ভিন্নতা রয়েছে। 

 

2.jpg?itok=aI4DyJKn&timestamp=1630513143

কৃত্রিম বাধে বাসা বাঁধছে ঝিনুকসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী। ছবি: মোহম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরী

চৌধুরী বলেন, "আমরা নদীর স্রোত, মৌসুমী ঝড়ের প্রভাবসহ আরও অনেক প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছি। তবে, ধারণাটির সফলতা নিয়ে তেমন সন্দেহ না থাকলেও, আমাদের অনেক পরিকল্পনা করে এগোতে হয়েছিল।"
 
পরিবেশগত প্রকৌশলের মাধ্যমে ঝিনুক প্রাচীর কুতুবদিয়া দ্বীপের উপকূল রক্ষা করতে পারে কিনা এই গবেষণার জন্য জনাব চৌধুরী, তার ২৭ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছয় বছর ধরে প্রায় ৬০০ দিন এই দ্বীপে কাটিয়েছেন।

নিয়মিত ঝড়, ঘূর্ণিঝড় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূল জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবগুলোর ক্ষেত্রে বেশ সংবেদনশীল। 

চৌধুরী বলেন, "ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি সাতজন বাংলাদেশীর মধ্যে একজন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত হবে। বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং উত্তপ্ত পানির কারণে সমুদ্রের ঢেউ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।"

গতানুগতিক কংক্রিট বাঁধ বা ডাইক, উপকূলসীমা রক্ষার জন্য একটি সাধারণ ব্যবস্থা হিসেবেই পরিচিত। বাংলাদেশী এনজিও কোস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরীর মতে, দেশের কমপক্ষে ৬০ শতাংশ উপকূল, বাঁধ দ্বারা সুরক্ষিত। তবে অনেকেই মনে করেন, কংক্রিটের বাঁধের তুলনায়  প্রাকৃতিক ঝিনুক প্রাচীর প্রতিরক্ষা তৈরিতে আরও কার্যকর হতে পারে।

ঝিনুক বাঁধ

পরিবেশ প্রকৌশল বা ইকো-ইঞ্জিনিয়ারিং মানবজীবন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় টেকসই বাস্তুতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত। কঠিন বহিঃআবরণ যুক্ত ঝিনুক, একসঙ্গে জলমগ্ন হয়ে পানির নিচে শক্তিশালী রিফ বা প্রাচীরের মতো তৈরি করে। এছাড়া, পানির পুষ্টি গুণাগুণ ধরে রাখার সঙ্গে সঙ্গে, মাছের আশ্রয়, প্রজননে সহায়তা এবং জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঝিনুক প্রাচীর অন্যান্য প্রাণীদের আবাসস্থল তৈরি করে, পানির গুণমান বাড়ায় এবং সমুদ্রিক শৈবাল বৃদ্ধিতেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

জনাব চৌধুরী এবং তার সহযোগীরা ঝিনুক প্রাচীরের এই প্রাকৃতিক শক্তিকেই এমনভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে এগোতে শুরু করেন, যেন এই শক্তি তার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই উপকূলকে সুরক্ষা দিতে পারে।

ওয়াজেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাস্টেইনেবল শেলফিশ কালচার-এর ইমেরিটাস অধ্যাপক আদ স্মাল বলেন, "এটি একটি ক্রমবর্ধমান প্রক্রিয়া - কঠিন কংক্রিটের নয়। এটি আমাদের লক্ষ্য অর্জনে প্রাকৃতিক শক্তি ব্যবহার করার একটি নতুন মাধ্যম।"

বিশ্বের অন্যান্য ঝিনুক বাঁধের প্রেক্ষাপট আর কুতুবদিয়ার প্রেক্ষাপট ছিল অনেকটাই ভিন্ন। কারণ অন্যান্য জায়গায় ক্ষয় হতে থাকা বাঁধগুলোকে পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল। অন্যদিকে, কুতুবদিয়ায় নতুন করে ঝিনুক বাঁধ তৈরির গবেষণা চালানো হচ্ছিল।

3.jpg?itok=EDwroDI0&timestamp=1630513197

কুতুবদিয়া জেটির পিলারের প্রাচীরে ঝিনুকের আস্তরণ। মোহম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরী

সৌভাগ্যবশত, প্রথমিক জরিপেই, কুতুবদিয়ায় ঝিনুক বাঁধ তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন- পানির উপযুক্ত তাপমাত্রা, পানির প্রবাহের বেগ, পিএইচ মাত্রা, লবণাক্ততা এবং দ্রবীভূত অক্সিজেন এসব কিছুর আদর্শ উপস্থিতি পেয়েছিলেন জনাব চৌধুরী। এছাড়া, পানিতে বিদ্যমান ফাইটোপ্লাঙ্কটনও ইঙ্গিত দিয়েছিল, এটি এমন একটি জায়গা যেখানে ঝিনুকের বিকাশ ঘটবে।

উপরুন্ত, জেটির কাছাকাছি একটি জায়গায় প্রাকৃতিকভাবেই ঝিনুকের প্রাচীর গড়ে উঠার বিষয়টিও প্রাথমিক গবেষণায় ধরা পড়ে।
সুতরাং, চৌধুরী এবং তার দল বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করলেন।  
স্থানীয়ভাবে যেসব উপকরণ কমমূল্যে পাওয়া যায় সেগুলোই তারা ব্যবহার করতে শুরু করেন। আর সেই উপকরণের মধ্যে ছিলো স্থানীয়ভাবে টয়লেট বানাতে ব্যবহৃত হওয়ার গোলাকার কংক্রিটের কমোড।
 
পরবর্তী অভিজ্ঞতা

কিন্তু কংক্রিটের উপরে ঝিনুক প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পেলেও, তারা তাদের আবাসস্থলের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
 
চৌধুরী বলেন, "বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঝিনুকের অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন। তারা ২০ শতাংশের বেশি সময় বায়ু বা সূর্যের সংস্পর্শে আসতে পারে না।"

চৌধুরী বলেন, কৃত্রিম রিফের জন্য সঠিক জায়গা খুঁজে পেতে সাহায্য করেছিল উপকূলীয় আদিবাসী সম্প্রদায়। কোস্তুরা (ঝিনুকের স্থানীয় নাম) সম্পর্কে স্থানীয় দ্বীপবাসীদের জ্ঞান  তার এবং তার গবেষণা সহযোগীদের জন্য অমূল্য প্রমাণিত হয়েছিল।

চৌধুরী বলেন, "আমি সবসময় আদিবাসী সম্প্রদায়ের জ্ঞানকে সম্মান করি।"

সঠিক স্থান নির্বাচন করে কংক্রিটগুলো যথাযথভাবে বসাতে পারলেই, বাঁধটি উপরের দিকে উঠতে থাকবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার সঙ্গে গতি বজায় রাখতে সক্ষম হবে। বাঁধটি প্রাকৃতিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও, সেখানে আবার নতুন ঝিনুক জন্ম নেওয়ার মাধ্যমে সে ক্ষতি পূরণ হবে বলে, বিশ্বাস করেন জনাব চৌধুরী।

গবেষকরা আশা করেছিলেন, ঝিনুক স্থানীয় সম্প্রদায়ের  খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে এবং ব্যবসায়ীক ক্ষেত্রেও ব্যাপাক সম্ভবনা তৈরি করবে। তবে, এটি স্থানীয় খাদ্যাভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয়।

স্মল বলেন, "ঝিনুক হালাল (ইসলামে বৈধ) হলেও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এটি ব্যাপকভাবে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠেনি।"

চৌধুরীও এ বক্তব্যের সঙ্গে সম্মত হয়ে বলেন, "আমাদের সব মানুষ ঝিনুকের প্রতি আগ্রহী নয়। এটি বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে খাওয়া হয় না। কেউ কেউ জানেও না ঝিনুক আসলে কী।"

কিন্তু বাংলাদেশের সরাসরি ঝিনুক খাওয়ার প্রচলন না থাকলেও, কুতুবদিয়ার মানুষেরা মাছ শিকারের মাধ্যমে জীবন নির্বাহ করে থাকেন। এবং তারা ভালোভাবেই জানেন এই দ্বীপে মাছের প্রাচুর্যতায় ঝিনুক বাঁধের ভূমিকা ব্যাপক।

চৌধুরী বলেন, "আমরা কংক্রিটের রিংগুলিতে কাঁকড়া পেতে শুরু করেছি। কাঁকড়ার রপ্তানি মূল্য অনেক। ১ কেজি কাঁকড়া ১০ ডলারে বিক্রি করা যায়।"

এছাড়া, গবেষক দল অন্যান্য প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণীও খুঁজে পেয়েছে বাঁধগুলোর উপরে, যা রপ্তানিযোগ্য এবং মাছের আনাগোনায় ভূমিকা রাখে।

4.jpg?itok=221WLijd&timestamp=1630513317

ছবি: মোহম্মদ শাহ নেওয়াজ চৌধুরী

প্রভাব

যদিও মাছের প্রাচুর্য বেড়েছিল; কিন্তু, বাঁধের পিছনে জমে ওঠা পলি সমস্যা তৈরি করতে শুরু করে।

নেদারল্যান্ডসে যেখানে বছরে ০.৩-২ ইঞ্চি পলি জমতে দেখা যায়, সেখানে কুতুবদিয়ায় এক বছরে জমেছে ১২ ইঞ্চি পলি। হিমালয় থেকে উপকূলীয় এই ব -দ্বীপে প্রচুর পরিমাণে পলি আসে, যা সমস্যা সৃষ্টির কারণ।

চৌধুরী বলেন, "আমরা সম্পদের কথা বলি, কিন্তু আমরা আমাদের পানির নিচে জমতে থাকা পলিজনিত সমস্যাকে উপেক্ষা করে যাই। আমাদের ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা এবং গঙ্গা নদীর বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোটি কোটি টন পলি প্রবাহিত হচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা যদি আমাদের উপকূলরেখায় বসতি স্থাপনের উপায় খুঁজে পাই, তাহলে সেটা হবে একটি নতুন দেশ তৈরি করার সমান।"

জনাব চৌধুরী দেখতে পেলেন বর্ষা মৌসুমেও এই বাঁধ অনেকটাই সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। বাঁধটি ৫০ সেন্টিমিটার (২০ ইঞ্চি) -এর নীচে পানি প্রবাহ হয়, এমন সমুদ্রিক ঢেউগুলো প্রতিরোধ করতে পারে। এটি তীব্র আবহাওয়াতেও কাজ করে। এর প্রমাণ পাওয়া যায়, ২০১৬ সালে যখন গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু, ৭০-১১০ কিলোমিটার বেগে এই গবেষণার স্থানে আঘাত হানেছিল। এছাড়া, এ অঞ্চলের গাছপালাও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রেখেছিল।

চৌধুরী বলেন, "এই গাছপালা উপকূল পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে পারে, যেমনটি দেশের অন্যান্য অংশে দেখা যায়। সুন্দরবন এলাকার কাছাকাছি (দক্ষিণ-পশ্চিমে), আপনি ক্ষয় দেখতে পাচ্ছেন না (কারণ) ম্যানগ্রোভ বন একটি জীবন্ত দেওয়াল হিসাবে কাজ করে।"

বিশ্বব্যাংকের পরিবেশ অর্থনীতিবিদ সুস্মিতা দাশগুপ্তের গবেষণায়ও এটা পাওয়া যায়।

তিনি লিখেছেন, ম্যানগ্রোভ বনগুলো ঝড়ের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। এর গাছগুলোর শিকড়, কাণ্ড এবং পাতা জলের প্রবাহকে ২০-৯২ শতাংশ বাধাগ্রস্ত করে।

তবে গবেষকরা বলছেন, ঝিনুক বাঁধ শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্তই সুরক্ষা দিতে পারে। বাংলাদেশের মতো নিম্ন-উপকূলীয় দেশগুলোর ভূমি দ্রুতই ডুবে যেতে পারে এমন উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫-২০ সেন্টিমিটার (২-৮ ইঞ্চি) হারে ভূমি ডুবে যাচ্ছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলছে। এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া, মানুষের অযাচিত কর্মকাণ্ডও পরিবেশকে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

কুতুবদিয়া দ্বীপে ঝিনুকের বাঁধ প্রাকৃতিকভবে এখনও টিকে আছে। তবে, এই প্রাচীর রক্ষণাবেক্ষণে মানুষের প্রয়োজনীয় করণীয় ও দায়িত্ব অনেকটাই অবহেলিত হয়েছে। বাঁধটি প্রাকৃতিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; কিন্তু এর কিছু অংশ উচ্চ জোয়ারে নৌকা চলাচলের সময় ভেঙে গেছে।

চৌধুরী বলেন, "এটি এড়াতে আমরা যে সাইন পোলটি বা চিহ্ন স্থাপন করেছিলাম তা হারিয়ে গেছে। এটি পুনরায় স্থাপনের এবং আরও পর্যবেক্ষণ করার জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় তহবিলও আর নেই।"

তারপরেও, স্মল আশাবাদী। তিনি বলেন, "আমরা জীবন্ত ঝিনুক বাঁধের দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন। এবং ঝিনুক যথেষ্ট শক্তিশালী।"

তাই তিনি আশা করেন এই ঝিনুক প্রাচীর আমাদের উপকূলীয়সীমা রক্ষা করবে। তিনি বলেন, "যদি যথাযথভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করা হয় এবং প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়,তবে এই কাজ সহজ হবে। কারণ প্রকৃতির বিরুদ্ধে কাজ করা এখন আর সম্ভব নয়।"

Link to comment
Share on other sites

https://www.banglarunnoyon.net/national-news/44077

মুক্ত জলাশয়ে স্বরূপে ফিরছে কাকিলা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২১  

4-2109020122.jpg

একসময় স্বাদুপানির মুক্ত জলাশয় অর্থাৎ নদী-নালা, হাওর-বাঁওড় ও খাল-বিলে পাওয়া যেত কাকিলা মাছ। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতা এবং প্রজনন সমস্যায় হারিয়ে যেতে বসেছিল পুষ্টিসমৃদ্ধ মাছটি।

আবারও মুক্ত জলাশয়ে এ প্রজাতির দেখা মিলবে। এমন আশার বাণীই শোনালেন দেশের মৎস্যবিজ্ঞানীরা। বদ্ধ পরিবেশে কাকিলার অভ্যস্তকরণ ও কৃত্রিম প্রজনন কলাকৌশল উদ্ভাবনে সফলতা পেয়েছেন যশোরে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) স্বাদুপানি উপকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা।

মৎস্যবিজ্ঞানীরা বলছেন, একসময় অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে মাছটি অধিক পরিমাণে পাওয়া যেত। কিন্তু জলবায়ুর প্রভাব, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং মানুষের তৈরি নানা কারণে বাসস্থান ও প্রজননক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ মাছের প্রাচুর্য ব্যাপক হারে কমে গেছে।

বিএফআরআই’র কোর গবেষণা কার্যক্রমের আওতায় তিন বছর নিবিড় চেষ্টার পর কৃত্রিম প্রজনন কলাকৌশল উদ্ভাবনের সফলতা পেয়েছেন মৎস্যবিজ্ঞানীরা। ফলে আবারও পানিতে ঢেউ তুলবে কাকিলা, রক্ষা পাবে বিলুপ্তির হাত থেকে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) স্বাদুপানি উপকেন্দ্র, যশোরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রবিউল আউয়াল হোসেন, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শিশির কুমার দে কাকিলা মাছ নিয়ে গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। 

তারা জানান, কাকিলা বা কাখলে একটি বিলুপ্তপ্রায় মাছ। এর দেহ সরু, ঠোঁট লম্বাটে এবং ধারালো দাঁতযুক্ত। বাংলাদেশে যে জাতটি পাওয়া যায় সেটি মিঠা পানির জাত। মাছটি বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলে কাইকল্যা, কাইক্কা নামেই বেশি পরিচিত। 

এর বৈজ্ঞানিক নাম Xenentodon cancila। মাছটিকে ইংরেজিতে Freshwater garfish বলে। এটি Belonidae পরিবারের অন্তর্গত। বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে এ মাছ পাওয়া যায়। তবে রং ও আকারে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।

গবেষকদলের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রবিউল আউয়াল হোসেন জানান, কাকিলার দেহ লম্বা এবং সামান্য চাপা এবং প্রায় সিলিন্ডার আকৃতির। এগুলো লম্বায় ২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। পরিণত পুরুষ মাছের মাথার শীর্ষে লাল চূড়া দেখতে পাওয়া যায়, যা থেকে সহজেই স্ত্রী ও পুরুষ মাছ আলাদা করা যায়।

তিনি বলেন, পুরুষ মাছের দেহ স্ত্রী মাছের তুলনায় অধীত সরু এবং আকারে একটু ছোট হয়। এটি শিকারি মাছ। এরা মূলত ছোট মাছ খেয়ে থাকে। প্রাকৃতিকভাবে প্রবহমান জলাশয়ে বিশেষ করে নদীতে এবং বর্ষাকালে প্লাবিত অঞ্চলে এরা প্রজনন করে। 

তিনি আরও বলেন, পরিণত মাছেরা ভাসমান জলজ উদ্ভিদ নেই এমন স্থানে বসবাস করলেও জলজ উদ্ভিদের পাতার নিচে ও ভাসমান শেকড়ে এদের স্ত্রীরা ডিম ছাড়ে। কাকিলা মাছের কৃত্রিম প্রজনন বাংলাদেশ প্রথম এবং বিশ্বের কোথাও এ মাছের কৃত্রিম প্রজননের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গবেষক দলের সদস্য ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, রাজবাড়ি জেলা সংলগ্ন কুষ্টিয়ার পদ্মা নদী থেকে কাকিলা ব্রুড (মা-বাবা) মাছ সংগ্রহ করে বিশেষ পদ্ধতিতে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে এনে যশোরের স্বাদুপানি উপকেন্দ্রের পুকুরে ছাড়া হয়। পরে হ্যাচারিতে উৎপাদিত কার্পজাতীয় মাছের জীবিত পোনা এবং নানা জলাশয় থেকে সংগৃহীত জীবিত ছোট মাছ খাইয়ে পুকুরের আবদ্ধ পরিবেশে মাছকে অভ্যস্ত করা হয়।

এ গবেষক জানান, চলতি বছরের মে মাস থেকে বৈজ্ঞানিক প্রটোকল অনুসরণ করে কৃত্রিম প্রজননের উদ্দেশ্যে উপকেন্দ্রের হ্যাচারিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক মা-বাবা মাছকে বিভিন্ন ডোজে হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয়। এভাবে কয়েকবার বিভিন্ন ডোজের ট্রায়াল দেওয়া হলেও মাছের প্রজননে সফলতা আসেনি। অবশেষে ২৫ আগস্ট প্রজননকৃত মাছের ডিম থেকে পোনা বের হয় এবং কাকিলা মাছের কৃত্রিম প্রজননে সফলতা আসে।

সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা জানান, কাকিলা মাছের প্রজননের জন্য পিজি (Pituitary Gland) হরমোন ব্যবহার করা হয়। গত ১৮ আগস্ট পুকুর থেকে মাছ ধরে চার জোড়া মা-বাবা নির্বাচন করে হ্যাচারির চৌবাচ্চায় নির্দিষ্ট সময় ঝর্ণাধারা দিয়ে মা-বাবা মাছকে একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় হরমোন ইনজেক্ট করা হয়। পরে মা-বাবা মাছকে একত্রে একটি চৌবাচ্চায় রেখে ঝর্ণাধারা দিয়ে সেখানে কচুরিপানা রাখা হয়। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর মা মাছ ডিম ছাড়ে। ডিমের ভেতরে পোনার বিভিন্ন দশা ও উন্নয়ন অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। ডিম ছাড়ার প্রায় ৯০ থেকে ১০০ ঘণ্টার মধ্যে নিষিক্ত ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়।

গবেষকদলের সদস্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শিশির কুমার দে বলেন, কাকিলা মাছের প্রজননের ট্রায়ালের সময় চৌবাচ্চারে পানির গড় তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম/লিটার এবং পিএইচ ছিল ৭ দশমিক ৬।

গবেষক দলের প্রধান ড. মো. রবিউল আউয়াল হোসেন ও মো. শরীফুল ইসলাম জানান, প্রতি ১০০ গ্রাম খাবার উপযোগী কাকিলা মাছে ১৭ দশমিক ১ শতাংশ প্রোটিন, লিপিড ২ দশমিক ২৩ শতাংশ, ফসফরাস ২ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং দশমিক ৯৪ শতাংশ ক্যালসিয়াম রয়েছে যা অন্যান্য ছোটমাছের তুলনায় অনেক বেশি।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ জানান, দেশের বিলুপ্তপ্রায় ৬৪টি মাছের মধ্যে ৩০টির কৃত্রিম প্রজননে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট সফলতা লাভ করেছে। সফলতার ধারাবাহিকতায় ৩১তম মাছ হিসেবে কাকিলা মাছ যুক্ত হলো।

তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সব বিপন্ন প্রজাতির মাছকে কৃত্রিম প্রজননের আওতায় আনা হবে, যাতে দেশের প্রতিটি মানুষের খাবার প্লেটে দেশীয় মাছ থাকে। এজন্য ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

Link to comment
Share on other sites

https://www.prothomalo.com/feature/shapno/হাতেকলমে-শেখার-ওপর-জোর-দেওয়া-হয়-ইউআইইউর-সিএসই-বিভাগে

হাতে–কলমে শেখার ওপর জোর দেওয়া হয় ইউআইইউর সিএসই বিভাগে

স্বপ্ন নিয়ে ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯: ৫০

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রকৌশল ও প্রযুক্তিসংক্রান্ত শিক্ষার ক্ষেত্রে সুনাম আছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ)। ঢাকার বাড্ডায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সুবিশাল সবুজ ক্যাম্পাস। ইউআইইউর কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক কিছু তথ্য।

 

কী পড়ানো হয়

ইউআইইউর কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে মূলত যেসব বিষয়ে পাঠদান করা হয়, সেগুলো হলো—কম্পিউটেশনাল থিওরি, নেটওয়ার্ক অ্যান্ড কমিউনিকেশন, সিস্টেমস, ডেটা সায়েন্স, সফটওয়্যার প্রকৌশল, হার্ডওয়্যার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, হেলথ ইনফরমেটিকস, ইন্টেলিজেন্ট কম্পিউটিং ইত্যাদি।

কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যেভাবে পরিচয় হয় শিক্ষার্থীদের

বর্তমানে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়ছেন। ছাত্রছাত্রীদের হাতে-কলমে কাজ শেখানোর উদ্দেশ্যে ল্যাব কোর্সে বিভিন্ন প্রকল্প ভিত্তিক সমস্যার সমাধান করতে হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘প্রবলেম সলভিং’য়ের মানসিকতা গড়ে ওঠে ছাত্রজীবন থেকেই। পেশাজীবনে তাঁদের এই দক্ষতা কাজে আসে।

চতুর্থ বর্ষে শিক্ষার্থীরা এমন সব সমস্যা খুঁজে বের করেন, যা দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। এরপর তাঁরা কম্পিউটারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চেষ্টা করেন। এ ছাড়াও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ক্লাবগুলো সারা বছর বিভিন্ন আয়োজন করে, যা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়ক। যেমন রোবোটিকস ক্লাব, অ্যাপ ফোরাম, কম্পিউটার ক্লাব। এই সংগঠনগুলোর বিভিন্ন আয়োজনে প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আসেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন। ফলে অনুপ্রেরণা পান শিক্ষার্থীরা।

ইউআইইউর সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। এ ছাড়া ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও আয় করছেন অনেকে। বৃত্তি নিয়ে ভিনদেশের বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন সিএসইর অ্যালামনাইদের কেউ কেউ।

শিক্ষক হিসেবে যাঁরা আছেন

বোর্ড অব অ্যাক্রেডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশনের (বিএইটিই) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে যুক্ত আছেন ১২ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক। চৌধুরী মফিজুর রহমান, আবুল কাশেম মিয়া, হাসান সারওয়ার, নুরুল হুদা, খন্দকার আবদুল্লাহ-আল মামুন, সালেকুল ইসলাম, আকম মুজাহিদুল ইসলাম, মো. মোতাহারুল ইসলাম, দেওয়ান মো. ফরিদ, স্বাক্ষর শতাব্দ, মোহাম্মদ শাহরিয়ার রহমান, মো. সাদ্দাম হোসেনসহ বিভাগে আছেন মোট ৪৫ জন শিক্ষক।

শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইউআইইউর সাবেক শিক্ষার্থী সাবিলা নওশীন বলেন, ‘তৃতীয় বর্ষ থেকেই টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজের সুবাদে আমার শিক্ষকতার হাতেখড়ি হয়েছে। যা পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার আবেদনের সময় কাজে লেগেছে। আমাদের বিভাগে প্রথম ট্রাইমিস্টার থেকেই বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় যোগদানের উৎসাহ দেওয়া হয়। শিক্ষকদের সহায়তা ছিল বলেই বিভিন্ন রিসার্চ প্রোজেক্টে কাজ করার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা জগতে পা রাখার সুযোগ পেয়েছি।’ সাবিলা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটনে পিএইচডি করছেন।

আমাদের মাস্টার্স (এমএসসিএসই) প্রোগ্রামের বেশ সুনাম আছে। প্রোগ্রামটি কমপক্ষে ৩৬.০ ক্রেডিট আওয়ারের; যেখানে থিসিস, প্রজেক্ট ও কোর্সভিত্তিক সনদ নেওয়ার সুবিধা রয়েছে। তা ছাড়া চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে ধারণ করার জন্য পুরোনো মেজরগুলোর সঙ্গে রয়েছে নতুন অনেকগুলো মেজর ট্র্যাক।

মুহাম্মদ নূরুল হুদা, পরিচালক, এমএসসিএসই প্রোগ্রাম

কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান সালেকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের পাঠ্যক্রমকে নিয়মিত আপডেট করি। এখন যেমন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব সম্পর্কিত বিষয় শিক্ষার্থীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স, রোবোটিকস, সাইবার সিকিউরিটির মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছি। “আউটকাম বেজড এডুকেশন” (ওবিই) এখন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত শিক্ষাব্যবস্থা, যা ভবিষ্যতে ছাত্রছাত্রীদের কর্মদক্ষতা বাড়াবে। আমরা ওবিই পদ্ধতিতে পাঠদান ও মূল্যায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখছি। যার স্বীকৃতি হিসেবে আমাদের প্রোগ্রাম কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ওবিই-ভিত্তিক অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছে।’

ভর্তি ও খরচ

ইউআইইউতে সিএসই পড়তে মোট খরচ হয় ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তবে নানা ধরনের বৃত্তি ও টিউশন ফি মওকুফের সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে ‘ফল-২০২১’ সেমিস্টারের ভর্তি প্রক্রিয়া চলমান আছে। চলবে ১ অক্টোবর পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা নেয় ইউআইইউ কর্তৃপক্ষ। তবে করোনা মহামারির কারণে বর্তমানে ভর্তি পরীক্ষার বদলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম ২.৫ সিজিপিএ পাওয়া ছাত্রছাত্রীরা স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির ফরম সংগ্রহ করতে পারেন। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া এবং ইংরেজি মাধ্যমে ‘ও’ লেভেলে চারটি ‘এ’ পাওয়া ছাত্রছাত্রীরা সরাসরি ভর্তি হতে পারেন। অনলাইন বা অফলাইন উভয় মাধ্যমেই ভর্তি হওয়ার সুযোগ আছে। বিস্তারিত জানা যাবে এই ওয়েবসাইটে। এ ছাড়া টেলিফোনে যোগাযোগের নম্বর: ০১৭৫০৩৯৪৯৮, ০১৭৫৯০৩৯৪৬৫, অথবা ০১৭৫৯০৩৯৪৫১।

 

Link to comment
Share on other sites

https://www.banglarunnoyon.net/national-news/43903

কৃষিতে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় সাফল্য

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২১

বাংলাদেশের কৃষিতে গত একযুগের সাফল্য ঈর্ষণীয়। কৃষিজমি কমতে থাকা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতিতেও কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং নতুন নতুন জাত আবিষ্কারে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। কৃষিতে অভাবনীয় এ সাফল্যের পেছনে উন্নত প্রযুক্তি, বীজ, সার ও যন্ত্রের ব্যবহার প্রধান উজ্জীবক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। এক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। দেশে বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় প্রচুর উচ্চ ফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি ও পরিবেশসহিষ্ণু নতুন জাত উদ্ভাবন হয়েছে। যার ফলে ধান, গম ও ভুট্টায় বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে ক্রমেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ।

১৯৯৬ সাল থেকেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে প্রথম নজর দিয়েছিল কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে। যার ফলশ্রুতিতে মাত্র পাঁচ বছরে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। কিন্তু ২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সময়ে দেশ আবার খাদ্য ঘাটতি এবং আমদানিনির্ভর অবস্থায় ফিরে যায়। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকার দেশের কৃষির উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়ায় ফসল উৎপাদনে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে। বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনে ৩য়, সবজি উৎপাদনে ৩য়, পাট উৎপাদনে ২য়, চা উৎপাদনে ৪র্থ এবং আলু ও আম উৎপাদনে ৭ম স্থানে রয়েছে।

২০০৮-০৯ সালে যেখানে মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ২৮ লাখ ৯৬ হাজার টন; সেখানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৩ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। বিগত ১২ বছরে বৈরী পরিবেশ সহনশীল জাতসহ মোট ৬৫৬টি উন্নত/উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল উদ্ভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে বারি বিভিন্ন ফসলের ২৮৭টি জাত, ব্রি ৫৮টি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত, বিজেআরআই ১৪টি পাটের জাত, বিএসআরআই ৮টি ইক্ষুর জাত, সিডিবি ৭টি তুলার জাত, বিনা ৫টি ফসলের ৭১টি জাত উদ্ভাবন করেছে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রতিক‚লতা সহিষ্ণু ধানের জাতের মধ্যে রয়েছে লবণাক্ততা সহনশীল ১৩টি জাত, জলমগ্নতা সহিষ্ণু ৬টি, খরা সহিষ্ণু ১০টি, জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধানের জাত ৬টি, কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (লোজিআই) ৩টি, উপক‚লীয় জোয়ার-ভাটা অঞ্চলের উপযোগী ধানের জাত ৩টি এবং হাওর অঞ্চলের উপযোগী ১১ জাত রয়েছে। সে সঙ্গে জিএমও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিটি বেগুনের ৪টি জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে ধানের উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি, গম দ্বিগুণ, সবজি পাঁচ গুণ এবং ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে দশ গুণ। দুই যুগ আগেও দেশের অর্ধেক এলাকায় একটি ও বাকি এলাকায় দুটি ফসল হতো। বর্তমানে দেশে বছরে গড়ে দুটি ফসল হচ্ছে। সরকারের যুগোপযোগী পরিকল্পনা, পরিশ্রমী কৃষক এবং মেধাবী কৃষি বিজ্ঞানী ও সম্প্রসারণবিদদের যৌথ প্রয়াসেই এ সাফল্য। স্বাধীনতার পর দেশে প্রতি হেক্টর জমিতে দুই টন চাল উৎপাদিত হতো। এখন হেক্টর প্রতি উৎপাদন হচ্ছে চার টনেরও বেশি। ধান ধরে হিসাব করলে তা ৬ টন। তাছাড়া হেক্টরপ্রতি ভুট্টা উৎপাদনে বিশ্বে গড় ৫ দশমিক ১২ টন। বাংলাদেশে এ হার ৬ দশমিক ৯৮ টন। খাদ্যশস্যে প্রতি হেক্টরে ১০ দশমিক ৩৪ টন উৎপাদন করে বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের পরে রয়েছে আর্জেন্টিনা, চীন ও ব্রাজিল। আর এভাবেই প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে : আমন, আউশ ও বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনে বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। কৃষির এ সাফল্য সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখছে।বিশ্বে গড় উৎপাদনশীলতা প্রায় তিন টন। আর বাংলাদেশে তা ৪ দশমিক ১৫ টন।

সবজি উৎপাদনে তৃতীয় : দেশে রীতিমতো সবজি বিপ্লব ঘটে গেছে গত এক যুগে। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার তথ্য মতে, সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয়। একসময় দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোরেই কেবল সবজির চাষ হতো। এখন দেশের প্রায় সব এলাকায় সারা বছরই সবজির চাষ হচ্ছে। এখন দেশে ৬০ ধরনের ও ২০০টি জাতের সবজি উৎপাদিত হচ্ছে।

মাছ উৎপাদনে চতুর্থ বাংলাদেশ : একসময় ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ কথাটি বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা বাস্তব। মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। মাছ রপ্তানি বেড়েছে ১৩৫ গুণ। এফএও পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বের যে চারটি দেশ মাছ চাষে বিপুল সাফল্য অর্জন করবে, তার মধ্যে প্রথম দেশটি হচ্ছে বাংলাদেশ। এরপর থাইল্যান্ড, ভারত ও চীন।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষিতে অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে উন্নত প্রযুক্তি, বীজ, সার ও যন্ত্রের ব্যবহার আধুনিকতার ছোঁয়া প্রধান উজ্জীবক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। এতে বিশেষ অবদান রাখছেন দেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা। দেশে বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় প্রচুর উচ্চ ফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি ও পরিবেশসহিষ্ণু নতুন জাত উদ্ভাবন হয়েছে। যার ফলে আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন।

তিনি বলেন, কৃষকরা যাতে কৃষিকাজ করে লাভবান হতে পারে, উন্নত সমৃদ্ধ জীবন পেতে পারে সে লক্ষ্যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সেজন্য কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাত ও ভ্যালু অ্যাড করতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করছে সরকার। কৃষিকে লাভজনক ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে বিদেশে কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হবে। সেজন্য কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে রাজধানীর পূর্বাচলে ২ একর জমিতে বিশ^মানের সর্বাধুনিক প্যাক হাউজ এবং অ্যাক্রেডিটেশন ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, গত ১২ বছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনের সব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কৃষিতে নীরব বিপ্লব হয়েছে। এতে দেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। একদিকে বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন জাত আবিষ্কার করেছেন, একই সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও ভর্তুকির মাধ্যমে তা কৃষক পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে; ফলে কৃষি খাতের সব দিকে ঈর্ষণীয় সাফল্য আমরা পেয়েছি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিদেশে রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরো সমৃদ্ধ করা সম্ভব।

যশোরের অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম ছামদানী বলেন, বর্তমান সরকারের সার্বিক উন্নয়নের মধ্যে বিশেষভাবে অবদান রেখেছে কৃষি সেক্টর। সরকার, বিজ্ঞানী, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা এবং কৃষকের যৌথ উদ্যোগের ফলে আমরা সফলতা অর্জন করতে পেরেছি। বিশেষ করে, স্থান অনুপাতে নতুন নতুন জাত আবিষ্কারের জন্যই ফলন কয়েক গুণ বেশি বেড়েছে।

Link to comment
Share on other sites

https://www.newagebd.net/article/148372/iu-teacher-gets-best-research-award-in-australia

IU teacher gets best research award in Australia

IU Correspondent . Kushtia | Published: 19:23, Sep 06,2021

148372_179.jpg

Rafiquel Islam. -- New Age photo

Rafiquel Islam, an assistant professor of applied chemistry and chemical engineering department of Islamic University in Kushtia, has received Society of Environmental Toxicology and Chemistry Australasia best research publication award-2021 in Australia.

According to university officials, Rafiquel Islam is now working as a PhD researcher at the School of Environmental and Life Sciences, The University of Newcastle, Australia. The subject of his research is ‘Hormonal compounds and their adverse effects on marine and estuarine aquatic life’.

He got the award as he showed, in his research, how hormones act as the essential elements in the body of rock oysters.

The research was presented in an Australia Conference held between August 30 and September 2 while he got the best publication award for this research work.

The research was also published in the Elsevier Aquatic Toxicology journal earlier.

  • Like 1
Link to comment
Share on other sites

https://bonikbarta.net/home/news_description/273869/খাদ্য-ও-পুষ্টিনিশ্চয়তায়-পাঁচ-দশকের-কৃষি-গবেষণা-

খাদ্য ও পুষ্টিনিশ্চয়তায় পাঁচ দশকের কৃষি গবেষণা

ড. মো. তোফাজ্জল ইসলাম

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২১

news_273869_2.jpg

প্রায় ৩০০ বছর আগে ফরাসি দার্শনিক জঁ-জাক রুসো বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং গৌরবমণ্ডিত শিল্প হচ্ছে কৃষি’। প্রায় ১০-১২ হাজার বছর আগে মানুষ যখন যাযাবর জীবনের অবসান ঘটিয়ে সামাজিক জীবনের সূচনা করল, তখনই তারা কৃষির গোড়াপত্তন করল। বিশ্বাস করা হয় যে মেয়েরাই প্রথম বন-জঙ্গল থেকে আহরিত খাদ্য উদ্ভিদের বীজ বসবাস অঞ্চলের আশপাশের মাটিতে পুঁতে কৃষি সূচনা করেছিল। অঙ্কুরিত চারাগাছের পরিচর্যা, পশু-পাখি পালন, এদের পর্যবেক্ষণ এবং ভালোভাবে বেড়ে ওঠা বা উন্নত উদ্ভিদ বা জীবকে পরবর্তী সময়ে চাষাবাদ বা লালন-পালনের মাধ্যমে ক্রমেই মানুষ কৃষি গবেষণার সূত্রপাত করে। নিয়ত কৃষি গবেষণার ফলে মানব ইতিহাসে কৃষিতে মোট পাঁচটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব, যথা নিওলিথিক (শিকার পর্ব শেষে মানুষের সংঘবদ্ধ বসবাসকালে যা খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১০ হাজার বছর আগে সংঘটিত) কৃষি বিপ্লব, আরব কৃষি বিপ্লব (অষ্টম-ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম বিশ্বে নতুন ফসলের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন), ব্রিটিশ কৃষি বিপ্লব (সপ্তদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীতে জেমস ওয়াট কর্তৃক বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের প্রভাবে কৃষি উৎপাদিকা শক্তির উল্লম্ফন), স্কটিশ কৃষি বিপ্লব (একই সময়) এবং সর্বশেষ বিপ্লবটি হলো সবুজ বিপ্লব। সবুজ বিপ্লবকে মানব ইতিহাসের প্রধান দুটি প্রযুক্তিগত বিপ্লবের একটি মনে করা হয়। আরেকটি হলো শিল্প বিপ্লব। সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয় মেক্সিকোতে বিজ্ঞানী ড. নরমেন বোরলগের নেতৃত্বে বিংশ শতাব্দীর (১৯৪৩ সাল থেকে) মাঝামাঝি সময়ে। কিন্তু ১৭৯০ সালে ব্রিটেনে জেমস ওয়াট কর্তৃক ইঞ্জিন আবিষ্কার ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের সূচনা করে। শিল্প বিপ্লবের ছোঁয়ায় সবুজ বিপ্লবেও গতি সঞ্চার হয়। শিল্প বিপ্লব ও সবুজ বিপ্লব পৃথিবীতে মানুষকে অত্যন্ত শক্তিশালী করে। সবুজ বিপ্লবের প্রযুক্তির সম্প্রসারণের ফলে কৃষি উৎপাদনে বিস্ময়কর উন্নতি সাধিত হয়। ফলে বিশেষত এশিয়ায় ও আফ্রিকার দেশগুলোতে খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তায় অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়। সবুজ বিপ্লবের ফলে বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ ম্যালথাসের মতবাদ ‘জনসংখ্যা বাড়ে জ্যামিতিক হারে, কিন্তু খাদ্যোৎপাদন বাড়ে গাণিতিক হারে। ফলে খাদ্যাভাব ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে পৃথিবীর জনসংখ্যা আপনা আপনিই নিয়ন্ত্রিত হবে’, তা ভুল প্রমাণিত হয়। তবে বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে শিল্প বিপ্লব ও সবুজ বিপ্লব উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। সবুজ বিপ্লবের জনক ড. নরমেন বোরলগকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। সবুজ বিপ্লবের প্রযুক্তিগুলো হচ্ছে ফসলের উন্নত জাত, পানি সেচ, রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক এবং উন্নত কৃষিতাত্ত্বিক ও উদ্যানতাত্ত্বিক পরিচর্যা।

যদিও সবুজ বিপ্লবের ফলে বিংশ শতাব্দীর ষাট থেকে সত্তরের দশকে ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশেই খাদ্যোৎপাদনে বিপ্লব সাধিত হয়। কিন্তু স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের কৃষিতে সবুজ বিপ্লবের তেমন ঢেউ স্পর্শ করেনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন দার্শনিক। স্বাধীনতার পর পরই তিনি কৃষিতে সবুজ বিপ্লবের সূচনা করার জন্য প্রয়োজনীয় সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন আমাদের সীমিত ভূমি থেকে ক্রমবর্ধমান বিশাল জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তার জন্য জ্ঞাননির্ভর কৃষির বিকল্প নেই। তার এ উপলব্ধি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভায় প্রদত্ত ভাষণে স্পষ্ট ফুটে ওঠে।

তিনি বলেছিলেন, ‘আমার দেশের এক একর জমিতে যে ফসল হয় জাপানের এক একর জমিতে তার তিন গুণ বেশি ফসল হয়। কিন্তু আমার জমি দুনিয়ার সেরা জমি। আমি কেন এই জমিতে ডবল ফসল করতে পারব না? আমি যদি দ্বিগুণ করতে পারি তাহলে আমাকে খাদ্য কিনতে হবে না।’ কৃষিকে অগ্রাধিকার প্রদান করে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের প্রথম বাজেটের ৫০১ কোটি টাকার মধ্যে ১০৩ কোটি টাকা (মোট বাজেটের ২০ দমমিক ৫৬ শতাংশ) কৃষি উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেন। জাতির পিতা জাতীয় সংবিধানে কৃষক-শ্রমিকের মুক্তি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের নিশ্চয়তা দেন। তিনি কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। জ্ঞাননির্ভর কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), তুলা উন্নয়ন বোর্ড, উদ্যান উন্নয়ন বোর্ড ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় গবেষণা অবকাঠামো প্রতিষ্ঠা করেন। কৃষিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মানসে বঙ্গবন্ধু চাকরিতে কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণীর পদমর্যাদা দেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘খাদ্য বলতে শুধু ধান, চাল, আটা, ময়দা আর ভুট্টাকে বোঝায় না। বরং মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাকসবজি এসবকে বোঝায়। সুতরাং কৃষির উন্নতি করতে হলে এসব খাদ্যশস্যের উৎপাদনে উন্নতি করতে হবে।’ বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশে সবুজ বিপ্লবের ভিত্তি রচনা করেছিল। গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাতির জনকের স্বপ্নের কৃষি বিপ্লব সাধন করেছে। সীমিত ও ক্ষয়িষ্ণু কৃষিভূমি থেকে ১৬.৫ কোটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা অর্জন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও গৌরবোজ্জ্বল অর্জন। ফসল উৎপাদন, মত্স্য চাষ, পশু-পাখি পালনসহ কৃষির সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তার দ্বারপ্রান্তে। কৃষি উৎপাদনের এ উল্লম্ফন কৃষিভিত্তিক নানা শিল্পের বিকাশ ঘটাচ্ছে। সকার কর্তৃক কৃষি গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেয়ার ফলে গত এক দশকে দেশে খাদ্যশস্য ও পুষ্টি উপাদান যেমন মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ফল ও শাকসবজির উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সমস্যাভিত্তিক কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে এসেছে নতুন গতি। উল্লেখ্য, ২০০৯-২০২০ সাল পর্যন্ত শুধু ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ সিস্টেমের (নার্স) আওতাভুক্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ফসলের ৬৩১টি উচ্চফলনশীল জাত এবং ৯৪০টি উন্নত কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। ফলে ২০০৮-০৯ সালে যেখানে মোট খাদ্যশস্যের (চাল, গম, ভুট্টা) উৎপাদন ছিল ৩২৮.৯৫ লাখ টন, ২০১৯-২০ সালে তা বেড়ে ৪৩২.১৫ লাখ টনে উন্নীত হয়। নিজস্ব প্রযুক্তির প্রয়োগে খাদ্যশস্য, ফল, শাকসবজি, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ উৎপাদনে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে রোল মডেল। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল ‘১০০ প্রযুক্তি এটলাস’ শিরোনামে গত পাঁচ দশকে নিজস্ব গবেষণায় উদ্ভাবিত শ্রেষ্ঠ ১০০ প্রযুক্তির বিবরণ পুস্তকাকারে প্রকাশ করে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতির এক মাইলফলক অর্জন হিসেবে বিবেচিত ১০০ কৃষিপ্রযুক্তি এটলাসের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিগত পাঁচ দশকে আমাদের কৃষি খাতে যে আমূল পরিবর্তন ও উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তা কতটুকু টেকসই, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কৃষিতে বর্তমান ও ভবিষ্যতে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৃষিশিক্ষা ও গবেষণায় কোন কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন, তা আলোচনার দাবি রাখে। জাতীয় কৃষিনীতি ২০১৮ ভবিষ্যতে খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা এবং কৃষিকে লাভজনক শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০-এর প্রধান দুটি অভীষ্ট হচ্ছে শূন্য দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী। কৃষি উন্নয়নের সঙ্গে এ দুটি প্রধান অভীষ্টসহ আরো কয়েকটি অভীষ্ট সম্পর্কিত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বর্তমানে প্রচলিত কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষিকে লাভজনক করে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা অর্জন কতটা সহায়ক হবে। দেশে প্রতি বছর শতকরা এক ভাগ কৃষিভূমি নানাভাবে অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। কৃষিতে বর্তমান উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখার আরো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাতগুলো। কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাতগুলো হচ্ছে লবণাক্ততা, খরা, বন্যা, উচ্চতাপমাত্রা, হঠাৎ গরম বাতাসের প্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, শৈত্যপ্রবাহ ইত্যাদি। এসব অভিঘাত কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, এটি এখন সর্বজনস্বীকৃত। বর্তমান কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় আরো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উচ্চ উপকরণ ব্যয় ও উপকরণ ব্যবহারের ক্রমহ্রাসমান দক্ষতা। রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক ব্যবহারে ফসল উদ্ভিদের ফলন বৃদ্ধির হার এবং রোগ-পোকা দমনে কার্যকারিতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। উচ্চ উপকরণ ব্যয়ের ফলে অনেক সময় কৃষি লাভজনক হচ্ছে না। এছাড়া ফসলের নিবিড়তা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এবং উচ্চফসলের আশায় অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক সার ও বালাইনাশকের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারে মৃত্তিকার স্বাস্থ্য ও পরিবেশদূষণ সংকটাপন্ন আবস্থায় আছে। বর্তমানে ব্যবহূত রাসায়নিক সারের শতকরা ৫০ ভাগের বেশি উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত না হয়ে পরিবেশ দ্বারা শোষিত হচ্ছে। বালাইনাশকের শতকরা ৯০ ভাগের বেশি নন-টার্গেটেড জীব ও পরিবেশকে আক্রান্ত করছে। বর্তমানে ব্যবহূত পানি সেচের বিরাট অংশ ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। এক হিসাবে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি কেজি চাল উৎপাদনের (বিশেষ করে বোরো ধান চাষে) জন্য গড়ে তিন হাজার লিটারের বেশি পানি খরচ হয়। শুষ্ক মৌসুমে এ উচ্চচাহিদা পূরণের লক্ষ্যে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলনের ফলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানি নেমে গিয়ে মরুকরণ শুরু হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ পানি উত্তোলনের ফলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকার ভূমি আর্সেনিক দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর্সেনিক মানবস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। জলবায়ু পরিবর্তন, উজানে বাঁধ দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানিপ্রবাহে বাধাদান এবং সেচের পানি সরবরাহের ফলে দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদী শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ হারায়। ফলে স্থলভাগে সামুদ্রিক লবণাক্ত পানি ক্রমেই প্রবেশ করায় দিন দিন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিভূমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান কৃষিতে আরেকটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ফসল প্রজাতির উদ্ভিদে বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য হ্রাস, যা প্রজননের কাঙ্ক্ষিত জলবায়ুর ঘাত সহনশীল জাত উদ্ভাবনের সম্ভাবনাকে ক্রমেই সংকুচিত করেছে।

উল্লিখিত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার জন্য কৃষিশিক্ষা ও গবেষণায় অগ্রসরমান বিজ্ঞানচর্চা প্রয়োজন। কৃষি এখন জীববিজ্ঞানের সবচেয়ে অগ্রসরমাণ শাখা। কৃষি জীবপ্রযুক্তি জিন প্রকৌশল ও জিন এডিটিং জীববিজ্ঞানের সবচেয়ে অগ্রগামী। বিজ্ঞানীরা এখন প্রতিটি জীবের ডিএনএ ও আরএনএ অণুতে বিদ্যমান এডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থায়ামিন ও ইউরাসিল অণুর অণুক্রম সিকোয়েন্সার মেশিনের মাধ্যমে জেনে এবং কম্পিউটার সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিনোম অণুক্রম নির্ণয় করতে পারেন। বিশাল ডিএনএ বা আরএনএ অণুর সিকোয়েন্সের অতি ক্ষুদ্র অংশ, যা জীবের কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী তাকে জিন বলা হয়। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা জিন প্রকৌশল বা জিন এডিটিংয়ের মাধ্যমে ইচ্ছেমতো কোনো উদ্ভিদে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য সংযোজন কিংবা ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য অপসারণ করে উচ্চফলন ও জলবায়ুর ঘাত সহনশীল উদ্ভিদ জাত তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে বেগুনের কাণ্ড ও ফল ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধী বিটি বেগুনের চারটি জাত কৃষকের মাঠে অবমুক্ত করেছে। এক্ষেত্রে আমাদের দেশের বেগুনের ডিএনএতে মাটিতে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিসের একটি জিন সংযোজন করেছেন। ফলে বেগুনে ফল ও কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা আক্রমণ করতে পারে না। এতে কোনো কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন না হওয়ায় উৎপাদন বাড়ে, উৎপাদন খরচ কমে। ফলে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যে কীটনাশকের কোনো কুপ্রভাব পড়ে না। সারা পৃথিবীতে এখন বিটি তুলা, বিটি ভুট্টা, ভিটামিন এ সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইসসহ নানা রকম বায়ো ইঞ্জিনিয়ার্ড ফসল চাষ হচ্ছে। আমাদের দেশে ব্রি উদ্ভাবিত ভিটামিন এ সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইস এখন পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক অবমুক্তকরণের অপেক্ষায় রয়েছে। দেশের নানা ফসলে জীবপ্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল গবেষণা চলছে।

কৃষিতে জীবপ্রযুক্তি, জিন প্রকৌশল ও জিন এডিটিংয়ের মাধ্যমে জলবায়ুর ঘাত সহনশীল উচ্চফলনশীল ক্লাইমেট স্মার্ট ফসলের জাত তৈরির জন্য পরিকল্পিত গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন। প্রধান প্রধান ফসলের কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিন আবিষ্কারের জন্য চাই দেশের জিন ব্যাংকে রক্ষিত ফসল উদ্ভিদের জিনোম অণুক্রম ও বায়োইনফরমেটিকস বিশ্লেষণ। বাংলাদেশ এরই মধ্যে পাট, ইলিশ, পাটের রোগ সৃষ্টিকারী ছত্রাক, ছাগল, মহিষ, গমের ব্লাস্ট রোগ সৃষ্টিকারী ছত্রাকসহ নানা রকম ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের জিনোম অণুক্রম নির্ণয় ও বায়োইনফরমেটিকস বিশ্লেষণ করে আধুনিক জীবপ্রযুক্তির সূচনা করেছে। পৃথিবীতে প্রথম মাঠ পর্যায়ে সর্বাধুনিক জিনোমিকস প্রযুক্তির ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের সঙ্গে সমঝোতা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিজিইর বিজ্ঞানীরা ২০১৬ সালে দেশের ১৫ হাজার হেক্টর গমের ক্ষতিগ্রস্ত জমিকে আক্রমণকারী মারাত্মক ব্লাস্ট রোগের ছত্রাক জীবাণুর উত্পত্তিস্থল নির্ণয় করেন। ফলে কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দেয়া সম্ভব হয় এবং পরবর্তী বছরগুলোতে ব্লাস্ট রোগ আরো নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও ক্ষতির পরিমাণ খুব কম হয়। সম্প্রতি একই বিজ্ঞানী দল জিন এডিটিং ও জিনোমিকস প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত সময়ে ও কম খরচে গমে ব্লাস্ট রোগ শনাক্তের সহজ জীবপ্রযুক্তি আবিষ্কার করেন। এ নতুন প্রযুক্তি দেশের কৃষকের মাঠে, গবেষণাগারে এবং বিশ্বব্যাপী গম আমদানি-রফতানিকালে কোয়ারেন্টিনে ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে ওএমসি হেলথকেয়ার লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে ব্লাস্ট রোগ দমনের জন্য ন্যানো পেস্টিসাইড এবং গমের বীজ থেকে আহরিত নভেল ব্যাসিলাস প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। বশেমুরকৃবির আইবিজিইর বিজ্ঞানীরা এরই মধ্যে ধানে সারসাশ্রয়ী জৈবসোনা খ্যাত প্রোবায়োটিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে মাঠ পর্যায়ে সফলতা পেয়েছেন। এসব আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তিকে ব্যাপকভাবে মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে এবং বিশ্ববাজারে রফতানি করতে হলে সরকারি প্রণোদনায় বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পার্টনারশিপ প্রয়োজন।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন বিজ্ঞানমনষ্ক এবং প্রযুক্তিবান্ধব দূরদর্শী নেতা। বর্তমান কৃষিমন্ত্রী একজন বিশ্বখ্যাত কৃষি বিজ্ঞানী এবং কৃষিতে নতুন একটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব আনয়নে অত্যন্ত নিবেদিত। আমাদের রয়েছে অনেক বিশ্বমানের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টগুলো ২০৩০ অর্জন এবং ২০৪১ সালে একটি অর্থনীতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কৃষিশিক্ষা ও গবেষণায় বেশকিছু পরিবর্তন আনয়ন প্রয়োজন বলে মনে করি।

আসন্ন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে জীবপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্সের (অ্যালগরিদম) মিথস্ক্রিয়ায় নতুন নতুন স্মার্ট প্রযুক্তি আধুনিক রোবট আকারে মানুষের অনেক কাজই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে করে দেবে। কৃষি ক্ষেত্রে জিনোমিকস, পোস্ট-জিনোমিকস, ফিনোমিকস, বায়োইনফরমেটিকস, ন্যানোটেকনোলজি, জিন এডিটিং, বায়ো ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়ো ফর্টিফিকেশন, বায়ো সেন্সর, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ইত্যাদির ব্যাপক প্রয়োগে নতুন নতুন ক্লাইম-স্মার্ট কৃষিপ্রযুক্তির উদ্ভাবন হবে। এসব প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষিতে বর্তমানে ব্যবহূত উপকরণ ব্যয়সাশ্রয়ী হবে এবং কৃষি হবে টেকসই ও পরিবেশসম্মত। কৃষিতে ব্যাপক যান্ত্রিকীকরণ এবং প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিকাশলাভ করবে। শুধু স্থলভাগের কৃষিই নয়, সামুদ্রিক প্রতিবেশে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহকারী উদ্ভিদ ও প্রাণীর চাষও সম্প্রসারিত হবে। বাংলাদেশে স্থলভাগের চেয়ে বড় আয়তনের বঙ্গোপসাগরের জলভাগ। সুতরাং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আগামী দিনের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং লাভজনক কৃষির উদ্বৃত্ত বিদেশে রফতানি করে ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও জাতীয় পরিকল্পনায় নিম্নরূপ পরিবর্তন আনয়ন করা যেতে পারে।

১. জাতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় কৃষিতে একটি নতুন বিপ্লব আনয়ন। উল্লিখিত অগ্রসরমাণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে কৃষি শিক্ষণ ও গবেষণায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনয়নের জন্যও গুরুত্বারোপ। ২. জাতীয় কৃষিনীতি, জীবপ্রযুক্তি নীতি, মত্স্য ও পশু-পাখি পালন নীতি অন্যান্য সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নীতিকে হালনাগাদ করা। কৃষিপ্রযুক্তি সম্প্রসারণে আধুনিক কৌশল ব্যবহার করা। ৩. কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠক্রমে অগ্রসরমাণ ও আন্তঃবিভাগীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসম্পর্কিত কোর্স অন্তর্ভুক্তকরণ এবং জিনোমকিস, ফিনোমিকস, বায়োইনফরমেটিকস, এগ্রোপ্রসেসিং ও ফুড সেফটি, ন্যানোটেকনোলজি, আইওটি, সামুদ্রিক কৃষি ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজনে নতুন বিভাগ খোলা ও গবেষণায় অগ্রাধিকার প্রদান। জ্ঞান-সৃজন উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরিতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে হবে। ৪. কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সভুক্ত কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনামাফিক জাতীয় অভীষ্টানুযায়ী যৌথভাবে গবেষণা করার নতুন সিস্টেম চালু করা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল উল্লিখিত গবেষণার সমন্বয়সাধন করবে। প্রয়োজনে বিএআরসির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানটির পুনর্গঠন করা যেতে পারে। উল্লিখিত গবেষণা অভীষ্ট অর্জনে গৃহীত প্রকল্পগুলোতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞানীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। প্রতিটি গবেষণা প্রকল্পে পর্যাপ্তসংখ্যক পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল ফেলোকে সংযুক্ত রাখতে হবে। প্রকল্প শেষে অভিজ্ঞ পিএইচডি ও পোস্টডক্টরদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ব্যবস্থা করলে এসব গবেষণা এবং গবেষণার ফলাফল টেকসই হবে। ৫. পরিকল্পনামাফিক অগ্রসরমাণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কৃষি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ইত্যাদির জন্য বিনিয়োগ করতে হবে। ৬. কৃষিতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং বর্তমান উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করতে হবে। ৭. গত কয়েক দশক আমরা মূলত উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা করেছি। কৃষি উৎপাদনের প্রক্রিয়াকরণ, কৃষক কর্তৃক ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির জন্য বাজার ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ও উচ্চ পুষ্টিসম্পন্ন কৃষিপণ্য ইত্যাদি বিষয়েও পরিকল্পিত ও সমন্বিত গবেষণা জরুরি। ৮. কৃষিতে বীমা ব্যবস্থা এবং কম সুদে ও সহজে ঋণপ্রাপ্তির ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি প্লাটফর্ম টেকনোলজি ব্যবহার করে কৃষি গবেষণায় দক্ষতা, মান ও উৎপাদিকায় গতি সঞ্চার করতে হবে। প্লাটফর্ম টেকনোলজি হচ্ছে অনেকগুলো অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে নতুন পণ্য ব্যবহারকারী পর্যন্ত পৌঁছানো।

কৃষি মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে কানাডার গ্লোবাল ইনস্টিটিউট অব ফুড সিকিউরিটির (জিআইএফএস) সঙ্গে প্লাটফর্ম টেকনোলজি ব্যবহারে যৌথ গবেষণার লক্ষ্যে একটা দূরদর্শী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এ সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশ ও কানাডার বিজ্ঞানীরা চারটি ক্ষেত্রে (থিম) কাজ করবেন।

ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে ১. উদ্ভিদ প্রজননে জিনোমিকস ও ফিনোমিকসের প্রয়োগ, ২. মৃত্তিকার স্বাস্থ্য ও মান, ৩. মৃত্তিকা পানির অবস্থা ও প্রয়োগ এবং ৪. ফসল সংগ্রহ-উত্তর প্রক্রিয়া ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ। এক্ষেত্রগুলোকে সমন্বিত করে অগ্রসরমাণ কৃষিপ্রযুক্তি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য একটি অ্যাডভান্সড টেকনোলজি সেন্টার স্থাপন, বশেমুরকৃবি, কানাডার জিআইএফএস ও সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু-পিয়েরে ট্রুডো চেয়ার স্থাপন এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে এসব কাজ সমন্বয়ের জন্য একটি আঞ্চলিক অফিস স্থাপন করা হবে। আশা করা যায়, বাংলাদেশ ও কানাডার বিজ্ঞানী দল এবং কৃষি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে বিশ্বমানের অগ্রসরমাণ কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন হবে, যা জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবেলা করে দেশে লাভজনক কৃষির প্রচলনে গতি সঞ্চার করবে। দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করে নানা রকম কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে আমাদের রফতানিতে কৃষি অধিকতর ভূমিকা রাখবে। উল্লিখিত প্লাটফর্ম প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাঁঠাল, ঢাকাই মসলিন উৎপাদনকারী ফুটি কার্পাস, ধান ও অন্যান্য স্থানীয় উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব এবং বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্যের জীবন-রহস্য উত্ঘাটন করে দেশে এক নতুন বায়োইকোনমির সূচনা হবে। একটি অর্থনৈতিকভাবে সোনার বাংলা রূপায়ণে গৌরবময় ঐতিহ্যের জ্ঞাননির্ভর কৃষি এক নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। সেজন্য চাই পরিকল্পিত ও সুসমন্বিত সময়োচিত পদক্ষেপ ও দক্ষ নেতৃত্ব। কৃষিই আমাদের কৃষ্টি। কৃষির বিকল্প কেবল কৃষিই।

 

ড. মো. তোফাজ্জল ইসলাম: ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো

Link to comment
Share on other sites

https://thefinancialexpress.com.bd/national/agro-revolution-to-be-seen-in-saline-areas-1631454699

‘Agro revolution to be seen in saline areas’

Published:  September 12, 2021 19:51:39

Agriculture Minister Dr Muhammad Abdur Razzaque on Sunday said there is a huge potential of growing crops in the saline lands of the country's coastal and southern areas as scientists have developed different salinity-tolerant varieties.

"Our agricultural scientists have already been able to develop many salinity-tolerant improved varieties of crops including rice, pulses, watermelon, potato and sunflower as well as vegetables," he said.

The minister said this at a farmers' rally at Gherer Ail area in Dumuria Upazila under Khulna District after visiting the off-season cultivation of bean, watermelon and pepper there, said a PID handout.

He said work is on to spread the newly developed salinity-tolerant variety of crops and production technologies to all farmers in the coastal areas. The preparation of a roadmap is underway to this end, he said.

"If the farmers cultivate these varieties of crops, an agricultural revolution would be seen in the saline lands of the country's southern areas," said Razzaque.

He said one-season crops can be grown due to salinity in the country's coastal areas, which is some 25 per cent of the country's lands. After harvesting Aman paddy, the vast coastal lands used to remain unused for the rest of the year.

"We've been working on how to cultivate crops two or three times a year in this unfavourable and adverse environment. We've already achieved many successes. But it needs to be expanded further so that crops can be produced here throughout the year," said the agriculture minister.

He said the government has taken initiatives to excavate and re-excavate some 600 canals in Khulna and Bagerhat to remove the irrigation problems, reports UNB.

Local MP and former minister Narayan Chandra Chanda and Senior Secretary of Agriculture Ministry Mesbahul Islam, Additional Secretary Wahida Akhter and Director General of the Department of Agricultural Extension Md Asadullah and Chairman of Bangladesh Agricultural Development Corporation (BADC) Dr Amitavh Sarker, Executive Chairman of Bangladesh Agricultural Research Council (BARC) Dr Shaikh Mohammad Bokhtiar, Director General of Bangladesh Rice Research Institute (BRRI) Dr Md Shahjahan Kabir and Director General of Bangladesh Agricultural Research Institute (BARI) Dr Md Nazirul Islam were present.

Link to comment
Share on other sites

https://samakal.com/chaturango/article/210663608/গবেষণা-শিল্পপ্রতিষ্ঠান-ও-সমাজ-একটি-যৌগিক-সূত্র

বিশ্ববিদ্যালয়

গবেষণা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সমাজ একটি যৌগিক সূত্র

ড. মো. মমিনুল ইসলাম

অধ্যাপক, রসায়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Email: [email protected]

 প্রকাশ: ০১ জুন ২১ । ১৪:২১

সমাজে প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা হতে দেখি। বিশ্বের 'র‌্যাঙ্কিং'-এ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে খুঁজে না পেয়ে আমরা হতাশ হই। অবশ্য এই র‌্যাঙ্কিংয়ের সঙ্গে পড়াশোনা-গবেষণার মানসংক্রান্ত অনেক বিষয় জড়িত। তাই এ হতাশা থেকে পরিত্রাণের সরাসরি পথ দেখানো কঠিন। সমাজ একটি বিস্তরক্ষেত্র। ভিন্ন ভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর বসবাস এখানে। তা থেকে কিছুসংখ্যক মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর পড়ালেখা করে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে সামান্য সংখ্যক শিক্ষার্থী গবেষণা নামক কর্মটি করার অপার সুযোগ পেয়ে থাকে। বাস্তবতা হলো গবেষণার প্রয়োজনীয়তা, উপকারিতা ও নিয়ামক সম্পর্কে সমাজের সামান্য সংখ্যক মানুষের অনুধাবন তথা উপলব্ধির বিষয় বটে।

তবে সাধারণের পক্ষে গবেষণা সম্পর্কে মোটাদাগে জ্ঞানার্জন কঠিন নয়। যদি নিজেকে প্রশ্ন করি, কী খাচ্ছি বা ব্যবহার করছি? কথা বলছি, লিখছি; ভালোটাকে ভালো আর মন্দটাকে মন্দ জানছি, ভাবছি। নতুন নতুন আচার-আচরণ, চিন্তা-চেতনা, জিনিসপত্র দিয়ে সমাজটাকে নিয়মিতভাবে সমৃদ্ধ হতে দেখছি। এবার ভেবে দেখি উৎস কী? আর এতসব নিত্যনতুনের জন্ম হয় কোথায়? আসলে গবেষণার মাধ্যমে সৃষ্ট 'নতুন জ্ঞান' দিয়ে এতসব নিত্যনতুনের জন্ম।

'নতুন জ্ঞান' ও 'গবেষণার স্থান' আজন্ম জোড়। অন্যদিকে আজকে যার জন্ম, কাল সে পুরোনো। আগে আবিস্কৃত জ্ঞান আজকে পুরোনো এবং তাকে 'জানা জ্ঞান' বলে। তাহলে নতুন জ্ঞান কাকে বলবেন? এখানে ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধি সম্পর্কে উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। বছরে বিশেষ সময়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহ ইলিশ ধরা বন্ধ রেখে তার প্রজনন কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা গেছে। প্রশ্ন হলো, এ ধারণাটি কি আগে থেকেই জানা ছিল? উত্তর, না। তাহলে এটা 'নতুন জ্ঞান' এবং এর সৃষ্টি হয়েছে কোনো গবেষণাগারে। অন্যদিকে তুলা থেকে কাপড় তৈরি একটি মহামূল্যবান জ্ঞান। কিন্তু এটি এখন সবার জানা। এটা এখন মোটেও 'নতুন জ্ঞান' নয়। কিন্তু তুলা হতে আরও উন্নতমানের টেকসই বা স্বল্পমূল্যে কাপড় তৈরির পদ্ধিত উদ্ভাবন করা অথবা তুলার বিকল্প অন্য কোনো তন্তু ব্যবহার করে কাপড় তৈরি করা যায় কিনা, তার প্রচেষ্টা করা হলো গবেষণা।

একইভাবে সমাজের অপরাধ দমনে প্রচলিত আইনি-পুলিশি ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে কোনো মনস্তাত্ত্বিক থেরাপি বা অনুশাসন অথবা অন্য কোনো উন্নত পথ বের করার চেষ্টাও গবেষণা। তেমনি নতুন প্রযুক্তি ও ভিনদেশি সংস্কৃতি সমাজে অভিযোজনে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানের প্রচেষ্টা হলো গবেষণা। এ রকম হাজার হাজার 'নতুন জ্ঞান' নিয়মিতভাবে সৃষ্টি হচ্ছে বলেই আজ আমরা আধুনিক সমাজে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অসভ্য থেকে সভ্য হয়ে বসবাস করছি।

দ্বিতীয় 'গবেষণার স্থান' বা গবেষণাগার। গবেষণাগার মূলত দুই ধাঁচের। ১. বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ও ২. সমাজের ছড়িয়ে থাকা অন্য সব গবেষণাগার। প্রকৃত অর্থে গবেষণাগারের উৎপত্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখান থেকেই এর বিস্তৃতি ঘটে সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে। আর এই দুই ধরনের গবেষণাগারে একই বিষয়ে গবেষণার দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তর আলাদা। মৌলিক গবেষণা সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়ে থাকে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন অধ্যাপকের গবেষণার ক্ষেত্র খুবই সুুনির্দিষ্ট এবং তা জীবনভর সাধারণত বদলায় না। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌলিক গবেষণা করে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ করা হয়। সেই মৌলিক গবেষণাকে প্রায়োগিক রূপ দিতে অন্য গবেষণাগারগুলোতে আরও ব্যাপক গবেষণা করা হয়।

গবেষণার দুটি ধরন হতে পারে- ১. নিজস্ব আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে কোনো সম্যসার সমাধানে গবেষণা ও ২. বিশ্বভিত্তিক বাণিজ্য করে লাভবান হওয়ার জন্য পণ্য বা প্রযুক্তি তৈরিতে গবেষণা। কোনো সমাজ, জাতি বা রাষ্ট্রের জন্য প্রথমটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর দায়ভার রাষ্ট্রকেই নিতে হয়। প্রসঙ্গত, নোনাপানিতে ধান চাষের প্রযুক্তি আবিস্কার কিংবা ডায়িং ফ্যাক্টরির বর্জ্য দ্বারা পানি দূষণরোধ অথবা দেশে নতুন প্রযুক্তি অভিযোজনে সমাজে সৃষ্ট অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি আমাদের একান্ত নিজস্ব সমস্যা। আমাদের ভৌগোলিক, আর্থসামাজিক, শিক্ষা-দীক্ষা, ধর্মীয় চেতনা এবং সংস্কৃতিকে সামনে রেখেই এগুলোর সমাধান প্রয়োজন এবং তা আমাদেরই করতে হবে। আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান অন্য কোনো দেশ-জাতি তখনই করবে, যদি তারা নিজেদের সমস্যার সমাধান করার পর সময় পায় ও লাভবান হয়। কারও তৈরি কোনো প্রযুক্তি, আইন বা বুদ্ধি তাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে অনুমিত ও সঠিক; আমাদের ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি কাজে নাও আসতে পারে।

সারা বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রকৃত অর্থেই নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করে সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দায়িত্ব অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নয়। গবেষণা করা তাদের জন্য অপরিহার্য কাজ। তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে সমাজের অগোচরে নতুন জ্ঞানের প্রজনন ঘটে। সমাজে কোনটি চলবে, কোনটিকে বাদ দিতে হবে, সে চিন্তা বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়ে থাকে। সমাজ হলো জ্ঞানের চর্চাক্ষেত্র বা চারণভূমি, সেখানে জ্ঞান পুষ্ট হয়, ফল দেয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো জ্ঞানের মেলা, আর সেখানে শিক্ষকরা হলেন জ্ঞানের ফেরিওয়ালা।

আমাদের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন এ তিনের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধানকে বুঝতে হবে ও তার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুবিধাটুকু সমাজ তথা জাতির উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। আসলে গবেষণা ও উদ্ভাবন শক্তিশালী জাতি গঠনের মোক্ষম চাবিকাঠি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের প্রচলিত উচ্চ শিক্ষায় এ দুইয়ের উপস্থিতি খুবই কম। কিন্তু গবেষণা ছাড়া আর যাই হোক দেশের প্রকৃত ও টেকসই উন্নতি সম্ভবপর নয়।

বিগত বছরগুলোতে আমাদের অর্জন ঈর্ষণীয় বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত। আজ আমরা আর দু'মুঠো ভাতের জন্য লড়াই করছি না। ২০৪১ সালে উন্নত দেশের কাতারভুক্ত হওয়ার স্বপ্টম্ন দেখছি। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা-মহাপরিকল্পনা হচ্ছে। এক সময়ের 'জিঞ্জিরা'কে শিল্প এলাকা হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছি। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হচ্ছে। পরিকল্পনায় গবেষণার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তারকা চিহ্নিত করতে হবে। শিল্পকারখানাগুলোকে গবেষণায় সম্পৃক্ত হতে বাধ্য করতে হবে। সে ক্ষেত্রে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের চুক্তিতে বা চুক্তি নবায়নে বার্ষিক লভ্যাংশের একটা অংশ গবেষণায় ব্যয়ের শর্ত আরোপ করে দিতে হবে। বিদেশি বিশেষজ্ঞনির্ভর সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দেশি বিশেষজ্ঞ পদায়নের ব্যাপারেও আইন করতে উদোগী হতে হবে। তাহলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়-গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণার ব্যাপকতা বাড়বে, অন্যদিকে তেমনি 'মেধা পাচার' ও কষ্টে অর্জিত অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভবপর হবে।

বিশেষ উন্নয়নে যৌগিক সূত্রে বাঁধা উল্লিখিত খাতগুলোর সমন্বয় সাধন অবশ্য একটু জটিল! কথায় বলে 'অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী'। যিনি হিব্রু ও বাংলা ভাষা পুরোপুরি পারদর্শী, প্রয়োজনে তাকেই হিব্রুতে লিখিত বিষয় বাংলায় অনুবাদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত, অন্যকে নয়। তেমনি সমাজে যে শ্রেণির মানুষ টাকার অঙ্ক কষতে জানার পাশাপাশি চিন্তাশক্তি দিয়ে ভবিষ্যৎকেও দেখতে পান, সেই শ্রেণির মানুষকেই বিশ্ববিদ্যালয় তথা গবেষণার লালন, পলিসি প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। কাজটি যদি যথাযথ হয়, তবে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও খুঁজে পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বার উন্মোচিত হবে।

Link to comment
Share on other sites

https://www.kalerkantho.com/online/national/2021/09/13/1072856

‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে ন্যানোটেকনোলজির ভূমিকা অনেক’

অনলাইন ডেস্ক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে

000439Pic-01_kalerkantho_pic.jpg

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুতির প্রয়োজন, অনেক গবেষণা ও একই সঙ্গে বিজ্ঞানীদের প্রণোদনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

তিনি বলেন, 'বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে দেশে বড় রকমের উম্ফলন ঘটে যাচ্ছে যাকে ধারণ করতে হবে, অবগাহন করতে হবে এবং আমাদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে হবে।' গত এক যুগে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিকে তিনি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সোনালী যুগ বলে অবিহিত করেন।

তিনি আরো বলেন, 'দেশের কৃষি খাতে আজকের যে বিপ্লব তার ভিত্তিটা বঙ্গবন্ধুই করে দিয়েছিলেন। গবেষণা ছাড়া একটা দেশ প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। ব্যাপক গবেষণা না করলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে আমরা ধারণ করতে পারব না।' 

প্রায়োগিক গবেষণা করে দেশের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে তিনি বিজ্ঞানীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। দেশের কল্যাণের জন্য ইনস্টিটিউট অব ন্যানোটেকনোলজি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

তিনি আরো বলেন, 'ন্যানোটেকনোলজির উপযোগিতা প্রচুর, বিজ্ঞানীদের ভূমিকা রাখার অবকাশ প্রচুর, ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি না আনা পর্যন্ত, স্টেইট অব দ্যা আর্টস টেকনোলজি ধারণ না করা পর্যন্ত টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।' গত শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ন্যানো সোসাইটি (বিএনএস) কর্তৃক আয়োজিত 'বঙ্গবন্ধুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভাবনা' শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উক্ত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও ঢাকাস্থ চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সম্মানিত পরিচালক ড. সেঁজুতি সাহা। তিনি বলেন, 'ন্যানোটেকনোলজি জিনিসটা হয়তো বা ছোট, ব্যাপারটা কিন্তু বড়।' ফাইজারের ভ্যাকসিন তৈরিতে ন্যানোটেকনোলজির বিশাল ভূমিকার কথা তিনি উল্লেখ করেন।  

আইনের ছাত্র হয়েও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর আগ্রহ এবং অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়কে তার সময়ে বিশ্বে বিরল ঘটনা বলে সেঁজুতি সাহা মনে করেন। তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধু বলতেন, বিজ্ঞান গবেষণায়ই শক্তি। শিক্ষার সঙ্গে গবেষণার একটা বন্ধন গড়তেই হবে। বিজ্ঞানী না হয়েও বিজ্ঞানকে বিজ্ঞানীদের চেয়েও বেশি উপলব্ধি করেছেন বঙ্গবন্ধু। 

বাংলাদেশের তরুণরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করে দেশে ফিরে এসে দেশের কল্যাণে যাতে কাজ করতে পারে সেজন্য বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পরপরই তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি করেন। বঙ্গবন্ধু তখনকার সময়েই টেকসই উন্নয়ন নিয়ে ভাবতেন এবং সে মোতাবেক কাজ করতেন। বিশেষত কৃষিতে তার গৃহীত অনেকগুলো পদক্ষেপের কারণেই আমরা বর্তমানে খাদ্যে স্বনির্ভর।' অল্প কয়েক বছরে বঙ্গবন্ধু যা করেছেন আরো অনেকদিন বেঁচে থাকলে তিনি আরো অনেক কিছু করতেন বলে আক্ষেপ করেন ড. সেঁজুতি সাহা।

তিনি আরো বলেন, '২০২০ সালের মার্চে বাংলাদেশে শুরু হওয়া কভিড-১৯ অতিমারি মোকাবেলায় জিনোম সিক্যেন্সিং, পিসিআর টেস্টসহ বিভিন্ন কাজে তরুণরা যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেটা তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের মতোই দেশের জন্য একটা যুদ্ধ ছিল।  বঙ্গবন্ধুর বিজ্ঞান চেতনাকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।' বঙ্গবন্ধুর বিজ্ঞান ভাবনার সঙ্গে কভিড-১৯ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সময়ে ঘটে যাওয়া বাস্তব অভিজ্ঞতা তিনি তার আলোচনায় সবিস্তারে তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে গবেষণার প্রতি বঙ্গবন্ধুর যে আলাদা একটা অগ্রাধিকার ছিল তার উদাহরণ হিসাবে বুয়েট এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনীতির বাইরে রাখার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞানীদের রাজনীতি থেকে দূরে রেখে বিজ্ঞান ও গবেষণায় মনোযোগী হয়ে দেশের গরিব মানুষের কল্যাণে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কৃষিতে সার, কীটনাশক, রোগবালাই সারানো ইত্যাদি কাজে ন্যানোটেকনোলজির ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদন খরচ অনেক কমিয়ে আনা এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান, প্রফেসর ড. তফাজ্জল ইসলাম তার বক্তব্যে ন্যানোটেকনোলজি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জাতীয় অর্থনীতিতে ন্যানোটেকনোলজির অবদান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'ন্যানোটেকনোলজি বিলিয়ন ডলারের বিজনেস। আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অনেক প্রতিভাবান গবেষক আছেন যারা তাদের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যানোটেকনোলহি গবেষণার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে পারেন।

তিনি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১-এ ন্যানোটেকনোলজি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করার আহবান জানান। ২০১৮ সালে জাতীয় কৃষি নীতিতে ন্যানোটেকনোলজির অন্তর্ভুক্তির ফলে ইতিমধ্যেই অনেক সুফল পাওয়া গেছে। ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি হিসাবে ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্টে প্রোডাক্ট তৈরির ক্ষেত্রে আমরা ন্যানোটেকনোলজিকে নিয়ে যেতে চাই। ব্লু  ইকোনমির মতো ন্যানোটেকনোলজি নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারলে আমরা দেশে এবং বিদেশে কৃষি, চিকিৎসা, ইলেক্ট্রনিক্সের মতো বিভিন্ন সেক্টরে সফল হতে পারব।' তিনি ন্যানোটেকনোলজি ও তার ব্যবহার সম্পর্কে আলোকপাত করেন এবং জাতীয় পরিকল্পনায় ন্যানোটেকনোলজিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
 
২০১২ সালে আন্তর্জাতিক ন্যানোটেকনোলজি কর্মশালার কথা স্মরণ করে আলোচনা সভার সভাপতি ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. আল-নকীব চৌধুরী বলেন, 'প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ন্যানোটেকনোলজি রিসার্চ সেন্টার বা এ ধরনের প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে গবেষণার যে আগ্রহ এবং চিন্তা-ভাবনা তিনি সম্প্রতি লক্ষ্য করেছেন তাকে কাজে লাগাতে পারলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলা আরও সহজ হবে।  আর এক্ষেত্রে ন্যাশনাল ন্যানোটেকনোলজি ইনস্টিটিউট স্থাপন, জাতীয় গবেষণা নীতিমালায় ন্যানোটেকনোলজির অন্তর্ভুক্তি দেশে প্রযুক্তি বিকাশে, সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) এর সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব রব্বানী আলোচনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি বাংলাদেশ ন্যানো সোসাইটির ভিশন ও মিশন সভায় তুলে ধরেন।  পাশাপাশি উন্নয়নে ন্যানোটেকনোলজির ভূমিকা সম্পর্কেও তিনি আলোচনা করেন।

Link to comment
Share on other sites

https://www.tbsnews.net/bangladesh/energy/bangladeshi-scientists-develop-green-solar-cell-234664#.YH8HdOyBhwQ.facebook

Eyamin Sajid

20 April, 2021, 10:45 pm

Last modified: 23 April, 2021, 12:27 pm

Bangladeshi scientists develop green solar cell

The efficiency level of the novel cell is 26%, 4% lower than a conventional solar cell that has toxic elements and is expensive to afford as well.

 

Highlights 

  • Efficiency level of the CuBi2O4 cell is 26%
  • Conventional solar cell efficiency is 30% at most
  • CuBi2O4 is non-toxic and earth abundant
  • Conventional solar cell has toxic elements like cadmium telluride and gallium
  • New solar cell would be disposable

Bangladeshi scientists have made a breakthrough in developing an environment friendly non-toxic solar cell named copper bismuth oxide (CuBi2O4) absorber based, thin film heterojunction solar cell.  

The efficiency level of the novel  CuBi2O4 cell is 26%, 4% lower than a conventional solar cell that has toxic elements and is expensive to afford as well.

However, its efficiency is still higher than cadmium telluride and copper indium gallium selenide (CIGS) solar panels that have 22-23% efficiency.

Also, the CuBi2O4 is non-toxic and comparatively cheaper to manufacture than silicon solar cells which are widely used in the market.

"It is a theoretical study. In the near future, we will try to do practical work once the Covid-19 situation normalises," Research Co-author Sheikh Rashel Al Ahmed told The Business Standard.

"This is the first research of its kind," he said.

Other researchers are Adnan Hosen of Pabna University of Science and Technology and Md Suruz Mian of Seikei University in Japan.

Sheikh Rashel Al Ahmed, an associate professor at Pabna University of Science and Technology said the newly developed solar cell would be disposable chemically which would not require highly sophisticated equipment.

Existing solar cells and panels are hard to dispose of and have toxic elements like cadmium telluride, and gallium.

The proposed cell, which was described in the study, "Simulating the performance of a highly efficient CuBi2O4-based thin-film solar cell," published in SN Applied Sciences, is still at the academic level.

"We are heading to address some issues including cost and fabrication process. These two areas are contributing factors to the cost of the existing solar panel," he said, adding that the materials for the new panel are abundant locally, and it is a solution-based process. 

Researchers said that the CuBi2O4-based thin-film solar cell will reduce the cost as it will not need costly silicon substrates for fabrication.

"Cost of our solar cell will be lesser than the conventional solar panel as our solar light absorber materials are abundant locally," said Sheikh Rashel Al Ahmed.

The fabrication process cost for a normal solar panel is very high. But the CuBi2O4 model will cost less due to the solution method.

Silicon wafer is needed for the normal silicon solar cell which is expensive for countries like Bangladesh, said the co-researcher.  

The thin-film solar cell based on copper bismuth oxide (CuBi2O4), which is a p-type semiconductor, has been recently identified as a photocathode with a two-dimensional porous heterojunction structure.

CuBi2O4 has a high optical absorption coefficient and the advantage of having a narrow energy bandgap, from 1.4 to 1.8 eV, which scientists say, is near the optimum value for solar cell applications.

The researcher found that the cell will have a heterojunction architecture in which the CuBi2O4 material is used as an absorber and n-type cadmium sulfide (CdS) is utilised as a buffer layer. The device also incorporates an aluminum (Al) film, a fluorine-doped tin oxide (SnO2:F or FTO) as a window layer, and a nickel (Ni) layer.

In a PV Magazine report, Sheikh Rashel Al Ahmed said, "The proposed cell design is not tested in a real device but, in the near future, practical production details will come in.

"To achieve pertinent insight into the desirable aspect of such devices in practical applications, the numerical investigation of structural performance, and understanding the physics of solar cells, could be a convenient approach."

According to him, the numerical modelling techniques could be used to forecast the variations in material properties and furnish important suggestions to change designs and parameters.

"Prior to solar cell fabrication, device simulations for thin-film heterojunction solar cells are necessary to understand the operation mechanism," he concluded.

 

Link to comment
Share on other sites

https://m.daily-bangladesh.com/english/KUs-Fermineff-wins-in-Intl-Theoretical-Physics-Olympiad/64069

KU’s Fermineff wins in Int’l Theoretical Physics Olympiad

Khulna Correspondentdaily-bangladesh.com

Published: 18:02 15 September 2021   Updated: 18:03 15 September 2021

Fermineff-Khulna-University-2109151202.j

Five members of the Fermineff team who won first place in the country in the International Theoretical Physics Olympiad

The Fermineff team of Khulna University’s (KU) Physics Discipline has won first place in the country by participating in the International Theoretical Physics Olympiad. At the same time, the team has ranked 15th in the world.

The Fermineff team members are – Asif Iqbal, Tahsin Ahmed Atashi, Md. Naeem Rifat, Md. Labib Hossain Khan and Nawrin Nurain.

A total of 5 teams from this discipline participated in the competition – 3 of them have got success. Of these – Skyrmion ranks 2nd in the country and 16th in the world and Phoenix ranks 8th in the country and 23rd in the world.

It is learned that the International Theoretical Physics Olympiad is a competition designed by Ph.D. students and postdocs for undergraduate students interested in theoretical physics research. The goal of this Olympiad is to find people interested in theoretical science and to help students gain experience in modern research skills.

A total of 29 teams from Bangladesh including 5 teams from Khulna University’s (KU) Physics Discipline participated in this year’s Olympiad. The results of this Olympiad have been published recently. 

The competition is jointly organized by several world-renowned universities such as the University of Santiago de Compostela, Stanford University, Princeton University, Johns Hopkins University, MIPT (Moskovskiy Fiziko-Tekhnicheskiy Institut), and UCLA (University of California, Los Angeles). 

Meanwhile, the KU Vice-Chancellor Prof. Dr. Mahmud Hossain congratulated the Fermineff team of the Physics Discipline for winning first place in the country in the International Theoretical Physics Olympiad. 

In a message, he congratulated the champion Fermineff team and the other two successful teams and expressed hope that their success would continue in the future and Khulna University’s position in the international arena would be further strengthened.

DailyBangladesh/AS

Link to comment
Share on other sites

https://www.banglarunnoyon.net/national-news/44349

বছরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আয় করছে ১৫০ কোটি টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১

২০১৮ সালের ১২ মে। বাংলাদেশের সফল যাত্রা শুরু মহাকাশে। তথ্যপ্রযুক্তিখাতে ডিজিটাল বাংলাদেশকে আরো একধাপ এগিয়ে নেয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে অভিজাত স্যাটেলাইট ক্লাবে যোগ দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু, স্যাটেলাইট যাত্রার শুরুটা সহজ ছিলো না মোটেও। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে রকেটের জন্য হঠাৎ প্রয়োজন হয়েছিলো বড় অঙ্কের নগদ অর্থ। যার ব্যবস্থা করতে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ কমিউনিকেশন্স স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, 'শুরুতেই কিছু নগদ অর্থের প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু, কোথাও ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে জানালে তিনি ব্যবস্থা করে দিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশের স্যাটেলাইট হয়তো মহাকাশে ডানা মেলতো না।'

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কারণে সম্প্রচারের খরচ কমেছে দেশের টিভি চ্যানেলগুলোর। কমেছে বিদেশি স্যাটেলাইট নির্ভরতা। বছরে এখন প্রায় দেড়শ' কোটি টাকা আয় করছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কোম্পানি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০২৩ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে। এই মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহারে সমুদ্র ও স্থলসীমা নজরদারি করা সহজ হবে বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস'র সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এ যেন ওয়েদার ফোরকাস্টিং এবং ইমেজিংয়ের কাজে যেন আমরা ব্যবহার করতে পারি।

বাংলাদেশ কমিউনিকেশন্স স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জানান, দেশের এখন বিশাল সমুদ্রসীমা রয়েছে। তাই সমুদ্রের নিরাপত্তার কাজে স্যাটেলাইটকে ব্যবহার করা হবে।

প্রথম স্যাটেলাইটে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্যাটেলাইটে খরচ কিছুটা কম হতে পারে বলছে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন্স স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড।

 

 

Link to comment
Share on other sites

https://www.prothomalo.com/feature/shapno/চতুর্থ-শিল্পবিপ্লবের-জন্য-প্রস্তুত-করছে-ইউআইইউর-তড়িৎ-ও-ইলেকট্রনিক-প্রকৌশল-বিভাগ

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য প্রস্তুত করছে ইউআইইউর তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগ

স্বপ্ন নিয়ে ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১: ০২

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও ভবিষ্যতের প্রযুক্তির কথা মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে চেষ্টা করছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক (ইইই) প্রকৌশল বিভাগ। ঢাকার মাদানী অ্যাভিনিউয়ের পাশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টির সুবিশাল সবুজ ক্যাম্পাস। প্রায় ছয় শ শিক্ষার্থী বর্তমানে ইইই বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিচ্ছেন।

ইইই বিভাগে মূলত পাওয়ার, ইলেকট্রনিকস, কমিউনিকেশন, এমবেডেড সিস্টেম ও রোবটিকস, ভিএলএসআই, বায়োমেডিক্যাল প্রকৌশল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, মোবাইল সেলুলার, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংসহ নানা বিষয়ে যুগোপযোগী কোর্স পড়ানো হয়। ‘আউটকাম বেজড এডুকেশন’ (ওবিই) পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রচেষ্টায় সাজানো হয়েছে পুরো পাঠ্যক্রম। শিক্ষকেরা জানালেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মূলমন্ত্র—‘অটোমেশন’ কে সামনে রেখে বিভাগে ছাত্রছাত্রীদের হাতে-কলমে কাজ শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই লক্ষ্যে বিভাগটিতে রয়েছে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সংশ্লিষ্ট ১৩টি ল্যাব। হার্ডওয়্যার নির্ভর পাওয়ার, কমিউনিকেশন ও অন্যান্য ল্যাব ছাড়াও রয়েছে কেডেন্স সংযুক্ত ভিএলএসআই ল্যাব। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা গবেষণাগার।

বিভাগের ‘সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চ’ প্রায় এক যুগ ধরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে গবেষণা করছে। দেশের কয়েকটি বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও গবেষণার সুফল লক্ষণীয়।

ইইই বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম রিজওয়ান খানের পরিচালনায় ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্স রিসার্চ শিক্ষকদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছে। ইউনাইটেড গ্রুপ এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। গবেষণাকে প্রাধান্য দিয়ে ইইই বিভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর আইসিডিআরইটি নামে একটি সম্মেলন আয়োজন করে।

ইলেকট্রিক্যাল ইলেকট্রনিকস ক্লাব, রোবটিকস ক্লাবসহ ক্যাম্পাসের কয়েকটি সংগঠন সারা বছর জুড়ে বিভিন্ন কর্মশালা, প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। বোর্ড অব অ্যাক্রেডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশনের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই বিভাগে যুক্ত আছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপানসহ নানা দেশ থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করা শিক্ষক।

ইউআইইউর ইইই বিভাগ থেকে পাস করে শিক্ষার্থীদের অনেকেই সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভিএলএসআই শিল্প ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বৃত্তি নিয়ে বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন।

ইউআইইউর ইইই বিভাগে পড়তে মোট খরচ হয় ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তবে নানা ধরনের বৃত্তি ও টিউশন ফি মওকুফের সুবিধা রয়েছে। বিশেষ সুবিধা রয়েছে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য। বর্তমানে ‘ফল ২০২১’ সেমিস্টারের ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা নেয় ইউআইইউ কর্তৃপক্ষ। তবে করোনা মহামারির কারণে ভর্তি পরীক্ষার বদলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে।

Link to comment
Share on other sites

https://www.tbsnews.net/bangladesh/education/two-iub-professors-win-research-grants-intl-organisations-307441

TBS Report

25 September, 2021, 08:15 pm

Last modified: 25 September, 2021, 08:22 pm

Two IUB professors win research grants from int’l organisations

The grants will serve to enhance opportunities for global engagement and international outreach for the university

new_project_1_0.jpg?itok=xY1wu-aO&timest

 

Professor Shah M Faruque and Professor Saleemul Huq. Photo: Courtesy

Two scholars of Independent University, Bangladesh (IUB) have recently received research grants from two international organisations.

Professor Shah M Faruque, dean of the School of Environment and Life Sciences at IUB, was awarded a research grant by the Wellcome Trust, a UK-based organisation, said a press release.

Under this award, the organisation will provide approximately $ 1.2 million over two and a half years to Faruque for researching how to control epidemics of waterborne diseases.

The Wellcome Trust is a global charitable organisation that supports excellence in biomedical research and medical humanities.

Professor Saleemul Huq, director of the International Centre for Climate Change and Development, won the COLOCAL grant with funding provided by the Norwegian Programme for Capacity Development in Higher Education and Research.

Dr Saleemul Huq was recognised as one of the top twenty global influencers on climate change policy in 2019. In 2021, he is the only Bangladeshi scientist to rank 208th on the Reuters Hot List of the world's top climate scientists.

The total funding for the six-year (2021-2026) COLOCAL project is valued at $2 million.

Professor Tanweer Hasan, the vice-chancellor of IUB, said "These awards recognise the outstanding research capabilities and commitments of IUB and will have a long-lasting effect on the quality of scientific research conducted in Bangladesh."

Both these grants will serve to enhance opportunities for global engagement and international outreach for IUB's faculty and students, he added.

Link to comment
Share on other sites

Create an account or sign in to comment

You need to be a member in order to leave a comment

Create an account

Sign up for a new account in our community. It's easy!

Register a new account

Sign in

Already have an account? Sign in here.

Sign In Now
 Share

×
×
  • Create New...