সিঙ্গেল ইঞ্জিন মাল্টিরোল ফাইটার এয়ারক্রাফটঃ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী

সিঙ্গেল ইঞ্জিন মাল্টিরোল ফাইটার এয়ারক্রাফটঃ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী

পৃথিবীর খুব কম বিমানবাহিনীর জন্ম ইতিহাস বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মত চমকপ্রদ। একদম শুন্য থেকে, যুদ্ধের মাঝে শুধু বুকে অদম্য সাহস, ইস্পাতসমান দৃঢ় মনোবল আর অকল্পনীয় দেশপ্রেমের এমন রুদ্ধশ্বাস জন্মকথা শুধু আমাদেরই আছে।

ঈদের পরে মুক্ত,ফাকা ঢাকা শহরেও যেখানে সাই-সাই করে ১২৫ কিমি গতিতে কিশোরের দল নিজের বাইক ছুটিয়ে চলে, আমাদের কিলোফ্লাইটের গতি ছিল ১২২ কিমি/ঘন্টা। একমাত্র সম্বল হাতে একটি প্লাস্টিকে মোড়ানো কাগজের ম্যাপ, দূরআকাশে চাদের ঐশী আলো !

আমরা উড়িয়ে দিয়েছিলাম ইস্টার্ন রিফাইনারি, মুহুর্তেই পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ করবার সব জ্বালানী একদম নাই হয়ে গিয়েছিল। প্রথম অপারেশনেই পাকিস্তানী বাহিনী কুপোকাত।

দেশ স্বাধীনের পর আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল চমৎকার। সে যুগের সবচেয়ে আধুনিক ঝা চকচকে মিগ-২১এর হাত ধরে। কিন্তু পরবর্র্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আর্থিক বিষয় বিবেচনায়,বাংলাদেশ আশির দশকের শেষে বাংলাদেশ হাতে পায় রাশিয়ান মিগ২১ এর চায়নিজ কপি এফ-৭ এমবি। বাংলাদেশ প্রতিবারই এফ-৭ সিরিজের সবচেয়ে আধুনিক সংস্করণ ব্যবহার করেছে।

এয়ার সুপেরিওর ক্যাটাগরিতে মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট কেনা ছাড়াও, এফ-৭ সিরিজের প্রথম ভার্শান এমবি কে বিদায় জানানোর সময় এসেছে। পৃথিবীতে খুব কম দেশই এখন সিঙ্গেল ইঞ্জিন MRCA ব্যবহার করে।

এফ-৭এমবি রিপ্লেস করতে আমাদের হাতে অপশান বেশ কম। আমেরিকার এফ-১৬, সুইডেনের গ্রিপেন এবং চায়নার জে-১০। পাকিস্তানের জেএফ-১৭, সত্যি কথা বলতে MRCA হিসেবে যুগের সাথে তাল মেলাতে এখনো পারেনি। আমাদের এফ-৭বিজিও তার চেয়ে কম না কোনদিকে।

নানা হিসেব , শর্ত ও বাস্তবতায় এফ-১৬ এবং গ্রিপেন আমাদের তালিকা থেকে বাদ।

সিঙ্গেল ইঞ্জিন মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট হিসেবে চায়নিজ জে-১০সি সম্পর্কে যে তথ্য আমরা পাই, সব কিছু বিবেচনায় এটি বেশ সমীহ জাগানোর মতই একটি যুদ্ধবিমান। চায়না,আমেরিকার এফ-১৬ কে সামনে রেখে এই বিমান ডিজাইন করেছে। এর প্রতিনিয়ত যে উন্নতি সাধন হচ্ছে সেটাও এফ-১৬কে মাথায় রেখে। যদিও অনেকেই একে গ্রিপেনের সাথে তুলনা করেন ! কোন একটি বিভাগে কমতি থাকলে, অন্যদিকে চায়না সে কমতি পুষিয়ে দিয়েছে।

জে-১০সি’র এভিউনিক্স বেশ ভালো। রাডার কিংবা সেন্সর চমৎকার। ইউরোপিয়ান কিংবা মার্কিন কাটিং এজ স্টেট অফ আর্টের কিছুই চায়নারা বাদ রাখেনি এতে যোগ করতে। এরোডিনামিক্যালি এর ডেল্টা উইং আকাশ থেকে ভূমিতে আক্রমণ করতে দারুন উপযোগী। আয়সা রাডার কেএলজে-১০,১৭০ কিমি পর্যন্ত অতন্দ্র প্রহরীর মত শত্রু খুজে নিতে পারে।

জে-১০সি’র যদি খুত ধরতে চান,তবে হয়ত বিভিআর টেকনোলোজি বা ডগ ফাইটে এর কার্যকারিতা নিয়ে কথা বলা যেতে পারে।কিন্তু জে-১০সি’র টার্ন রেশিও রেট বেশ ভালো,যা যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক হিসেবকেই ভুল প্রমান করতে পারে। থাইল্যান্ডে এক এক্সেসাইজে এই টার্ন রেশিওর জন্যই গ্রিপেন , জে-১০সি’র কাছে স্লো স্পিড ম্যানূভারে কুপোকাত হয়েছে। সাথে পেলোড আর রেঞ্জ বিবেচনা করলে ( এয়ার ফুয়েলিং সহ) ডিপ স্ট্রাইক এট্যাক করতে জে-১০সি দারুন একটি যুদ্ধবিমান।

PL-12,PL-15 ব্যবহারের সক্ষমতা ছাড়াও, সেকেন্ডারি মেরিটাইম স্ট্রাইক ফাইটার হিসেবেও এর ব্যবহার সম্ভব।৩২ টি জে-১০সি যদি আমাদের ভান্ডারে থাকে (নুন্যতম,বাংলাদেশ ৪৮টি কিনতে পারে) প্রতিবেশী যেকোন দেশই আকাশপথে আমাদের আক্রমণ করতে কপালে ভাজ ফেলবে। আকাশ সুরক্ষা দেয়া ছাড়াও, নৌবাহিনীকে পেট্রোল ও ফায়ার সাপোর্ট দিতেও এর ব্যবহার সম্ভব।

এফ-৭এমবি’র রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে জে-১০সি বেশ ভালোই একটি বিমান !

614 Shares
Translate »
error: © 2020 Bangladesh Defence & Security Analysis. All rights reserved.