বাংলাদেশ-চায়না সম্পর্ক ও জে-১০সি যুদ্ধবিমান

বাংলাদেশ-চায়না সম্পর্ক ও জে-১০সি যুদ্ধবিমান

চায়নার সামরিক ও কূটনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে চায়নার তৈরি জে-১০সি মাল্টিরোল যুদ্ধবিমানের অন্তর্ভুক্তি এখন সময়ের ব্যাপার। ক্রমবদ্ধমান সিনো-বাংলা সম্পর্ক, পারফরম্যান্স-ভূরাজনীতি-দাম বিবেচনায় এফ-৭এমবি বিমানের রিপ্লেসমেন্ট, এফ-৭বিজি ওয়ান বিমানের পরবর্তী ধাপ কিংবা প্রস্তুতকারক হিসেবে প্রথম ইন্টারন্যাশনাল কাস্টোমার হিসেবে চায়নার কাছে বাংলাদেশের গ্রহনযোগ্যতা ইত্যাদি নানাদিক বিবেচনায়, তাদের এমন চিন্তা খুব অবাস্তব নয়। অনেকেই ভাবছেন, জে-১০সি বিমানের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশ-চায়নার কুটনৈতিক সম্পর্ককে আমেরিকা-চায়নার পিংপং ডিপ্লোম্যাসি কিংবা চায়নার পান্ডা ডিপ্লোম্যাসির মত নতুন মাত্রা দেবে! 

এফ-৭এমবি রিপ্লেসমেন্টের মাধ্যমে জে-১০সি বিমানবহরে যুক্ত হলে যে বাকী দুই সিরিজ এফ-৭ বিমানের রিপ্লেসমেন্টও জে-১০সি’র আধুনিক কোন সংস্করণ দিয়েই হবে ;এটা সহজেই বলে দেয়া যায়। ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর রূপরেখা অনুযায়ী বাংলাদেশ ৩-৪ টি সিঙ্গেল ইঞ্জিন মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান পরিচালনা করবে। আমাদের দেশের আয়তন অনুযায়ী ৪৮-৬৪ টি সিঙ্গেল ইঞ্জিন মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান যথেস্ট হলেও খুব বেশী টেকনোলোজি ট্রান্সফার চায়না করবে বলে মনে হয় না। অবশ্য এটা অর্থনৈতিকভাবেও কোন দেশের জন্য ফলপ্রসূ হবে না।   

তবে একথা নিশ্চিত, ফোর্সেস গোল ২০৩০ অনুযায়ী একই আয়তন বিবেচনায় পাশ্ববর্তী অন্য যেকোন দেশের তুলনায় প্রতি স্কয়ার কিলোমিটার বা কিলো স্কয়ার মিটার যাই আমরা বলি না কেন – আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই হবে সবচেয়ে উন্নত ও চৌকস। পাশ্ববর্তী কোন দেশের তাই ১০০ যুদ্ধবিমান বহরে থাকলেও আমাদের কপালে ভাজ ফেলার কিছু নেই।  

ইসরাইল বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আরব দেশের মত বাংলাদেশ কোন যুদ্ধে লিপ্ত নেই। তাই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিবেচনা, কূটনীতি বা দামের হিসেবে অন্য সিঙ্গেল ইঞ্জিন মাল্টিরোল বিমানের চেয়ে জে-১০সি আমাদের জন্য বেশ মানানসই।

অদূর ভবিষ্যতে আমাদের আরও হেলিকপ্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ও ক্ষেপনাস্র এবং আধুনিক ট্রান্সপোর্ট বিমানের প্রয়োজন হবে। 

See also  China constructing Bangladesh Navy’s ultra-modern submarine base

আমাদের অর্থনীতির সিংহভাগ যেহেতু বংগপোসাগর দিয়ে আমদানী-রপ্তানী বানিজ্য নির্ভর, কৌশলগতদিক বিবেচনায় আমাদের একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী প্রয়োজন। পাশাপাশি এই বিশাল ব্লু ইকনোমির সুদৃঢ় নিছিদ্র নিরপত্তার জন্য একটি স্বতন্ত্র মেরিটাইম ফাইটার স্কোয়াড্রনের প্রয়োজনীতা অনস্বীকার্য।

সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যা সংখ্যা ৬০,০০০ কম হওয়া উচিত নয়। একই সাথে ৩টি অপেরেশনাল ফ্লোটিলা, ১টি রিজার্ভ ফ্লোটিলা ও শক্তিশালী উপকূল ভিত্তিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরক্ষা মূলক ব্যবস্থা হিসেবে জে-১০সি’র মত যুদ্ধবিমানের ব্যবহার এবং এতে ব্যবহৃত এন্টি শীপ মিসাইল বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে, এসব যুদ্ধাস্র তৈরির প্রযুক্তি বাংলাদেশকে চায়নার কাছ থেকে আদায় করে নিতে হবে।

2469 Shares
Defseca.com © 2021